চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় অনলাইনে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় এই তথ্য জানানো হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশোধনযোগ্য ভুল থাকলে শিক্ষার্থীরা আপিল করতে পারবেন এবং যাচাই শেষে তাদের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হতে পারে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে। এরপর প্রার্থীরা পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।
তথ্য অনুযায়ী:
-
সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলে প্রাথমিকভাবে ২৩ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে।
-
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন মনোনয়নপত্র জমা পড়ে; এর মধ্যে ২১ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
-
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কারো প্রার্থিতা বাতিল হয়নি।
-
খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১২ জনের মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও প্রাথমিকভাবে ১১ জন বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
মোট ১৯ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
এরই মধ্যে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটরিয়ামে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রায় ৩০০ জন প্রার্থী অংশ নেন।
সভায় প্রার্থীরা শহরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচনের দিন অতিরিক্ত বাস চলাচল ও ফ্রি যাতায়াত সুবিধা, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, নির্বাচনের আগে ও পরে পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ রাখাসহ নানা দাবি উত্থাপন করেন। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় রোধে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানান।
এক স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “২৭ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ যদি একাই ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ করে, তাহলে আমরা অন্য প্রার্থীরা ঢেকে যাব। রাজনৈতিক দলের তহবিল থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এটি হুমকি স্বরূপ।”
সভায় উপস্থিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মনির উদ্দিন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করব।”
নির্বাচন আচরণবিধি নিয়ন্ত্রক ড. নসরুল্লাহ পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গে বলেন, “যেসব সিডিউল আগে থেকেই ঘোষণা হয়েছে, সেগুলো যথারীতি চলবে। তবে নতুন কোনো সিডিউল যেন না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখব।”
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মনির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার ড. আরিফুল হক সিদ্দিকী, ড. নসরুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার পর প্রার্থীদের সঙ্গে ফটোসেশনও করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ অক্টোবর প্রায় তিন যুগ পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই আচরণবিধি মেনে সীমিত আকারে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
আরাফ/মেহেদী/