ইউরোপের অন্যতম শিক্ষাবান্ধব দেশ হাঙ্গেরি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় এক গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। উচ্চমানের শিক্ষা, তুলনামূলক কম খরচে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ এবং আইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই ভর্তি হওয়ার সুবিধা— সব মিলিয়ে বাংলাদেশসহ বহু দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি এখন স্বপ্নের জায়গা।
হাঙ্গেরি সরকারের ‘স্টাইপেনডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ’ প্রোগ্রামটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ২০১৩ সাল থেকে চালু হওয়া এই স্কলারশিপ বর্তমানে ৮৫টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।
এর আওতায় ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি এবং নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই স্কলারশিপে টিউশন ফি পুরোপুরি মওকুফ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মাসিক স্টাইপেন্ড, আবাসন সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবীমাও পান।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, আইএলটিএস বা টোফেল ছাড়া ইউরোপে পড়া কি আদৌ সম্ভব? হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে উত্তর হলো—হ্যাঁ, সম্ভব। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আগের শিক্ষাজীবনে ইংরেজি মাধ্যম বা ইংরেজিতে পাঠদান প্রমাণ করতে পারলে আলাদা ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। যেমন- ডেব্রেসেন বিশ্ববিদ্যালয়, ইওটভোস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইকোনমিক্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীর ইংরেজি দক্ষতা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেও যাচাই করে থাকে। ফলে যারা ব্যয়বহুল ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি ছাড়াই বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটিও তুলনামূলক সহজ। সাধারণত আবেদন করতে হয় অনলাইনে, ‘DreamApply’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। প্রয়োজন হয় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, মোটিভেশন লেটার, রেফারেন্স লেটার এবং ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণপত্রের। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা ‘সেনডিং পার্টনার’ নির্ধারিত থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি এ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
তবে সুযোগের পাশাপাশি রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতাও। প্রতি বছর হাজারও আবেদনকারীর মধ্যে কেবল নির্বাচিত কিছু শিক্ষার্থীই চূড়ান্তভাবে সুযোগ পান। তাই আবেদন করার আগে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া এবং সময়মতো সঠিক কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইউরোপের শিক্ষায়নের ইতিহাসে সমৃদ্ধ হাঙ্গেরি বর্তমানে তার দরজা খুলে দিয়েছে উন্নয়নশীল বিশ্বের মেধাবী তরুণদের জন্য। আইএলটিএস ছাড়াই স্কলারশিপের এই সুযোগ শুধু উচ্চশিক্ষার দ্বারই খুলে দিচ্ছে না, বরং নতুন এক সংস্কৃতি ও জীবনধারার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও এনে দিচ্ছে। তাই যারা বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখছেন কিন্তু ভাষা পরীক্ষার ঝামেলায় পিছিয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য হাঙ্গেরি হতে পারে নতুন দিগন্তের সূচনা।