ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস। জনবহুল এই এলাকার ডাকঘরটিতে এখনও আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি। কক্ষ জরাজীর্ণ, নোংরা ও দুর্গন্ধময়। নেই পর্যাপ্ত জনবলও। নামমাত্র সম্মানীতে এখানে তিনজন কাজ করেন। অফিস খোলা থাকে প্রতি কার্যদিবসে মাত্র দুই ঘণ্টা। বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে চিঠিপত্র বিলি করা হয়। এতে গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হন। সবচেয়ে বড় সমস্যা পোস্টঅফিসের সামনের অংশে। পাশের একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রসাব করে। সুযোগ পেলে বহিরাগতরাও জায়গাটি নোংরা করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভালুম আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে পোস্ট অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে। এর সামনেই কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ডাকঘরের দরজার পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শৌচাগার। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় খোলার আগে শৌচাগারে না গিয়ে পোস্ট অফিসের সামনেই প্রস্রাব করে থাকে। অফিসের সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে আছে। কেউ পোস্ট অফিসের সেবা নিতে গেলে দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখেন।
জানা গেছে, সাব-পোস্ট অফিসটির কোড-১৩৫১। তবে এটি কত সালে নির্মিত হয়েছে তা জানা যায়নি। অনেকে বলেন, এটি পাকিস্তান আমলে স্থাপন করা হয়েছে। যদিও আজও এটি সরকারি রাজস্বের আওতায় আসেনি। এখানে কর্মরতদের নামমাত্র সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। অফিস খোলা হয় সপ্তাহে ৫ দিন। ২ ঘণ্টা কাজ শেষে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে চিঠিপত্র বেশির ভাগ সময় কালামপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে বিলি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিতে আসা লোকজন ফোন দিলে প্রয়োজনীয় চিঠি বা পার্সেল বাজারের চায়ের দোকান থেকেই বিলি করা হয়। সকাল ১০টায় অফিস খুলে বেলা ১২টা বাজার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কালামপুর সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন জানান, দেলোয়ার হোসেন নামে একজন বিলিকারক ও শফিকুল ইসলাম নামে একজন রানার রয়েছেন। এই তিনজন দিয়েই চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসে জনবল কম। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এটির কোনো সংস্কার করা হয় না। পোস্ট অফিসটিতে আজও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। ডিজিটাল বা আধুনিক যুগে একটি পোস্ট অফিসে ওয়াই-ফাই সংযোগ, কম্পিউটার থাকার কথা। কিন্তু এখানে সেই প্রাচীন বা অ্যানালগ সিস্টেমেই কার্যক্রম চলছে। এতে হাজারও গ্রাহকের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কথা হয় পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পিয়ন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, পোস্ট অফিস ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অনেক সময় এর কমও থাকে। লোকজন সেবা নিতে এসে প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বাজারে একটি চায়ের দোকান থেকে দেলোয়ার নামে একজন চিঠিপত্র বিলি করেন। গ্রাহকরা অফিস বন্ধ পেলে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ওই চায়ের দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যান। আর যারা তার নম্বর জানেন না, তারা সেবা পান না।
পোস্ট অফিসটিতে কর্মরত পোস্টমাস্টার, বিলিকারক ও রানার সরকারের কাছ থেকে খুবই কম সম্মানী পেয়ে থাকেন। পোস্টমাস্টার পান ৫ হাজার ৮৪৩ টাকা সম্মানী, বিলিকারক ৪ হাজার ৩০০ টাকা ও রানার পান ৪ হাজার ১০০ টাকা সম্মানী ভাতা।
বিলিকারক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে একজন মানুষ দিনে কাজ করলে হাজার টাকা মজুরি পান, সেখানে আমরা সারা মাস কাজ করে পাই মাত্র ৪ হাজার ৩০০ টাকা। তাও এটা বেতন না, সরকার আমাদের সম্মানী ভাতা দেয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘অনেক সময় গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়।’
পোস্টমাস্টার দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা অফিস সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখি।’ নোংরা পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদিকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অফিসের সামনে নোংরা করে, অন্যদিকে অফিস বন্ধ থাকার সময় বহিরাগতরাও নোংরা করে থাকে।’
সম্মানী ভাতার বিষয়ে তিনি জানান, তাদের রাজস্বের আওতায় আনতে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।