শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ আজ ছিল মুখর ও প্রাণবন্ত। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে ফিরে এসেছেন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল ‘দৈনিক খবরের কাগজ।’
বিদ্যালয়ের ৫৪টি ব্যাচের সহস্রাধিক প্রাক্তন ছাত্র, শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অতিথির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে অ্যালামনাই সদস্যদের আগমন ও নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানসূচি। পরে অতিথিদের উপস্থিতি, উদ্বোধন, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রেস্ট বিতরণ, র্যাফেল ড্র ও সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রাতে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
তিনি বলেন, ‘পুনর্মিলনী আমাদের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে। শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও যুব উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. শাহ আলম, আহ্বায়ক পুনর্মিলনী ২০২৫ উদযাপন কমিটি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুমন রেজা, প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার, টেকনিক ইজি এডুকেশন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুর রহমান, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. কাজী গোলাম রসুল, বর্তমান সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মাসুদ খান।
স্মৃতিচারণ পর্বে এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে আমরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাই পাইনি, শিখেছি শৃঙ্খলা, বন্ধুত্ব ও দায়িত্ববোধ। আজ আবার সেই জায়গায় ফিরে এসে শৈশবের দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।’
আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, ‘শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় আমাদের জীবনের ভিত গড়ে দিয়েছে। এখানকার শিক্ষক ও পরিবেশ আমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছেন।’
অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ‘এই পুনর্মিলনী আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। আমরা চাই, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা যেন বিদ্যালয় ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে সার্থক করেছে।’
আরাফাত/নাঈম