দীর্ঘ ১৬ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আধুনিক ফল চাষের মাধ্যমে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাফর সাদেক। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের জিনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিজের স্বপ্ন, শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও লেবুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
জানা যায়, প্রবাস থেকে ফিরে ইউটিউবে বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ভিডিও দেখে আধুনিক ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন সাদেক। পরে তিনি কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন ফল, মাল্টা, পেয়ারা, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করেন। প্রায় ১৭ মাসের নিবিড় পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া এলাকায় সুফিয়া নুরিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে প্রায় এক একর বর্গা নেওয়া জমিতে ড্রাগন, মাল্টা, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলের চাষ করা হয়েছে। চারপাশে নেট বা ত্রিপল দিয়ে ঘেরা বাগানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা গাছগুলোতে এখন ফলের সমারোহ। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। অনেকে ফল সংগ্রহও করছেন। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
দর্শনার্থী রবিউল আলম বলেন, ‘ফেসবুকে দেখে জানতে পারি টেকনাফে একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ড্রাগন, মাল্টা ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। বন্ধুদের নিয়ে বাগানটি দেখতে এসেছি। বাগানটি পরিদর্শন করে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।’
আরেক দর্শনার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ‘টেকনাফে এমন একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠবে, তা কল্পনার বাইরে ছিল। টেকনাফের উর্বর মাটি এ ধরনের উদ্যোগ সফল হওয়ার বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’
বাগানের মালিক মৌলভী জাফর সাদেক জানান, প্রায় তিন কানি জমি ১০ বছরের জন্য বর্গা নিই। প্রতি কানির জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এর পর প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপণ করি। দীর্ঘ ১৭ মাস পরিচর্যার পর বাগানে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করে তিন লাখ টাকার বেশি আয় করেছি। ড্রাগন ফল প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমার বাগানের সব ফলই সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্বাদু। আমার লক্ষ্য ছিল নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে স্থানীয় অনেক মানুষ এখনো কৃষিকাজে আগ্রহ দেখান না।’
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রসঙ্গে সাদেক অভিযোগ করে জানান, কৃষি অফিস থেকে তিনি তেমন সহযোগিতা পাননি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সমস্যার ভিডিও পাঠাতে বলত এবং কিছু পরামর্শ দিত। কিন্তু কখনো বাগান পরিদর্শনে আসেনি। এমনকি কৃষকদের জন্য ঘোষিত কৃষিকার্ডও এখনো হাতে পাইনি।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কৃষক জাফর সাদেকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাগান পরিদর্শন করে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবেন। আগামী জুলাই মাস থেকে কৃষকদের মধ্যে কৃষিকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তখন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সব কৃষককে কার্ড দেওয়া হবে।’