রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রায় সাড়ে তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন চারবার পেছানোয় নির্বাচনের ব্যয়ও বেশি হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে কী পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে তা আজও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে তা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করেও মেলেনি নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব। ফলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নির্বাচনি খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তবে রাকসু নির্বাচনে প্রায় সোয়া কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান।
গত ১৯ জানুয়ারি এই প্রতিবেদক রাকসু নির্বাচনে খরচের বিবরণী চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন। পরে গত ২৬ জানুয়ারি উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবদুল মালেক স্বাক্ষরিত এক দপ্তরীয় পত্রে জানানো হয়, ‘চাহিত তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিবেচিত হয়নি।’
তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদনের দপ্তরীয় পত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-রেজিস্ট্রার এবং তথ্য সেলের অফিসপ্রধান (অতিরিক্ত) মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে সেটা এড়িয়ে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভালো বলতে পারবেন।’ পরে এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে তিন দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। কিন্তু নির্বাচনের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। পাশাপাশি এই অর্থের উৎস এবং ব্যয়ের খাত নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৩৫ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নিয়মিত আদায় করা হয়েছে রাকসু ফি। এ ছাড়া রাকসু ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের মূল্য ৩০০ টাকা এবং হল ছাত্র সংসদে মনোনয়নপত্রের মূল্য আদায় করা হয় ২০০ টাকা। এই নির্বাচন তদারকির জন্য সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয় ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক মো. আমজাদ হোসেনকে। পরে আমজাদ হোসেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেন। এর পর ২৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলামকে প্রধান কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন উপাচার্য। নির্বাচনের আগে কমিশন থেকে জানানো হয়, নির্বাচনে প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। তবে নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে রাকসু নির্বাচন হয়নি। চার দফা পিছিয়ে গত ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সকালে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে (২৩ পদের ২০টিতে বিজয়ী)। নির্বাচনে শাখা ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে একজন, সাবেক সমন্বয়কের প্যানেল থেকে একজন এবং স্বতন্ত্র পদে একজন জয়ী হন। চার দফা নির্বাচন পেছানোয় খরচের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।