আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহিদদের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতের আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। কিন্তু মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় প্রতিবাদ করে শাখা ছাত্রদল। এতে ভুল স্বীকার করে পুনরায় মোনাজাত করেন ইবি কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম আশরাফ উদ্দীন খান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহর রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২ টা এক মিনিটে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি, বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, সমিতি, শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান। তবে মোনাজাতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় প্রতিবাদ করে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে দ্বিতীয়বার মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।
নেতা-কর্মীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। কেন তার নাম নিতে পারে না? যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে পারছে তার নাম নিতে ভুল হয় কীভাবে? পরে জিয়াউর রহমানের নামসহ পুনরায় মোনাজাত করে স্থান ত্যাগ করার দাবি করেন তারা।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আজকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহিদ দিবসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মোনাজাতে বলা হয়নি এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত বলে আমি মনে করি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমাম সাহেব ভদ্র ভালো মানুষ। তিনি কখনও জিয়াউর রহমানের নাম মিসটেক করেননি। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় উদযাপন কমিটি ও প্রশাসন এ নামটি বাদ দিয়েছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমি মনে করি। এজন্য আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
এ বিষয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমি জিয়ার সৈনিক। আমি ছাত্রজীবন থেকে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছি। আমার বিষয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইমাম সাহেব মোনাজাতে ভুল করে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। পরে ছাত্রদল প্রতিবাদ করায় ইমাম সাহেব ভুল স্বীকার করে দ্বিতীয়বার মোনাজাতও করেছেন। আমরাও মোনাজাত করেছি।
এ বিষয়ে প্রোভিসি প্রফেসর ড. এয়াকুব আলী বলেন, দোয়ার পূর্বেই আমি খতিবকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ নতুন সরকারে যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের জন্য দোয়ার কথা বলেছি। যাইহোক যেকোনো কারণে তিনি হয়ত ভুলে গেছেন। মানুষের ভুল হতেই পারে। এটা নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। পরবর্তীতে ছাত্ররা প্রতিবাদ জানালে পুনরায় দোয়া করা হয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইটের সঙ্গে প্রোভিসির বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রোভিসি বলেন, সুইট না বুঝেই কাজটি করেছে। ছোট মানুষ। বয়স কম। ও ভেবেছে ইমাম সাহেব ভুল করেছে হয়ত উদযাপন কমিটিতে আমি আছি। কিন্তু ও জানে না আমি আগেই ইমাম সাহেবকে জানিয়েছি। তবে কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি।
নিয়ামত/নাঈম/