জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারের গাফলতি, সম্পূরক বৃত্তি প্রদানসহ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে ক্রমাগত ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগের দাবি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
সোমবার (৯ই মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারের ব্যর্থতায় প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শিবির কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। জবি প্রশাসন এবং শিবিরের প্রত্যক্ষ মদদে সাংবাদিক সমিতির গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে ৮ মার্চ একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের স্বনামধন্য পত্রিকার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে শিবিরের মতাদর্শের সাংবাদিকদেরকে রাখা হয়। বাদ যাওয়া সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে যখন সাংবাদিক সমিতিতে যান তখন শিবির এবং শিবিরপন্থি সাংবাদিকরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
হিমেল আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই ন্যক্কারজনক হামলার বিচার চেয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিচার নিশ্চিত না করে গাফলতি করেছে। এর আগে সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে আমরা বারবার আন্দোলন করেছি কিন্তু তারা শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তি প্রদান ব্যর্থ হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের হামলার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা এবং সম্পূরক বৃত্তি প্রদানে ব্যর্থতায় আমরা প্রশাসনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।
এ সময় সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা দেশের স্বনামধন্য পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর শিবিরের ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে এখানে প্রশাসনের গাফলতি স্পষ্ট।
তিনি আরও বলেন, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্পূরক বৃত্তিসহ তিন দফা দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেখানে কথা দিয়েছিল সম্পূরক বৃত্তি জানুয়ারি মাসে প্রদানে ব্যর্থ হলে তারা পদত্যাগ করবে। কিন্তু জানুয়ারি গড়িয়ে এখন মার্চ মাস চলে কিন্তু প্রশাসন বৃত্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই ব্যর্থ প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সর্দার, মুস্তাফিজুর রহমান রুমী, মো.শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান, রবিউল আওয়াল কাজি রফিকুল ইসলাম ,নজরুল ইসলাম মামুন, তুহিনসহ আরও অনেক নেতা-কর্মীরা।
মুজাহিদ বিল্লাহ/নাঈম