পড়ন্ত বিকেল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা সবুজ মাঠ। রোজার এই পবিত্র সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের খোলা আকাশের নিচে শহিদ সালাম-বরকত হল-সংলগ্ন মাঠে আমরা ‘সরকার ও রাজনীতি’ বিভাগের চার বন্ধু— আমি, সুরুজ, ফিরোজ আর খাইরুল ইফতারের আয়োজনে মেতেছিলাম। তবে আনন্দের এই ক্ষণেও অনুপস্থিত বন্ধুদের খুব মনে পড়ছিল।
ঘাসের ওপর তরমুজ, খেজুর, আনারস আর শরবতের গ্লাস সাজানোর মাঝেই লুকিয়ে ছিল বন্ধুত্বের অকৃত্রিম উষ্ণতা। আমাদের আয়োজনে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না, ছিল কেবল নিজেদের হাতের ছোঁয়া আর আড্ডার উচ্ছ্বাস।
একটু দূরে চোখ মেললেই দেখা যায়, আমাদের মতোই ছোট ছোট দলে ইফতারের অপেক্ষায় বসে আছেন আরও অনেকে। মাঠজুড়েই যেন এক আত্মিক মিলনের মেলা।
ছাত্রজীবনের এই সময়টা বড় অদ্ভুত। দেখতে দেখতে অনার্স জীবনের পাট চুকে গেল। কিছুদিন পরই হয়তো ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে এই চিরচেনা ক্যাম্পাস ছেড়ে পাড়ি জমাতে হবে ভিন্ন ঠিকানায়। তখন চাইলেও হয়তো সবুজ ঘাসে গোল হয়ে বসে এ রকম খুনসুটির সুযোগ আর পাব না। তাই হাসিখুশি আড্ডার আড়ালেও মনের গহিনে কোথায় যেন বাজছিল এক অস্ফুট বিদায়ের সুর।
মাগরিবের আজানের সুমধুর ধ্বনি কানে আসতেই স্রষ্টার কাছে সুন্দর ভবিষ্যতের প্রার্থনা শেষে তৃপ্তিতে মুখে খাবার তুলে নিই। দিনশেষে মনে হলো, এই ইফতার কেবল ক্ষুৎপিপাসা মেটানোর কোনো আয়োজন ছিল না; এটি ছিল বন্ধুত্বের এবং বিদায়বেলায় ক্যাম্পাসের বুকে গেঁথে যাওয়া এক অমূল্য স্মৃতির ফ্রেম— যা আজীবন আমাদের মনে করিয়ে দেবে ফেলে আসা সোনালি দিনগুলোর টুকরো কথা।
লেখক: শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়