প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব বই দিবস। বই মানুষের চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটায়, খুলে দেয় অজানা দিগন্তের দুয়ার। এই বিশেষ দিনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি হয় নানা ভাবনা ও অনুভূতি। কারও কাছে বই জীবনের পথপ্রদর্শক, আবার কেউ বইয়ের মাঝে খুঁজে পায় নিজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগেও শিক্ষার্থীদের জীবনে বইয়ের গুরুত্ব কতটা তা তাদের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্ব বই দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সেই সব ভাবনা ও অনুপ্রেরণার গল্প তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারদিন মোহাম্মদ
বই কতটুকু পড়া উচিত?
হাবিবা সুলতানা
অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
বই মূলত একজন মানুষের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাজগতের জীবন্ত দর্পণ। সব বই পড়া সম্ভব নয় বলে পড়া ছেড়ে দেওয়া আর সব খাবার খাওয়া সম্ভব নয় বলে খাওয়া ছেড়ে দেওয়া একই কথা। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত বেছে বেছে মানসম্মত বই পড়া।
বই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে। তবে ভুল প্রভাব এড়াতে লেখকের চিন্তাধারা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বইকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো নিজের আগ্রহের বিষয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়া।
মনে রাখা প্রয়োজন, প্রযুক্তির এই যুগে বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটি একান্তই নিজের উপলব্ধির বিষয়। তাই সুস্থ সমাজ গড়তে বইয়ের সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্ব গড়া জরুরি।
তারুণ্যের হাতে বই মানেই সম্ভাবনা
হাবিব আল মিসবাহ
শিক্ষার্থী, আল কোরআন আর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
তারুণ্য কেবল বয়স নয়, বরং স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার শ্রেষ্ঠ সময়। বর্তমানের অস্থির ডিজিটাল যুগে বই আমাদের স্থির হতে এবং চিন্তার গভীরে যেতে শেখায়। একটি ভালো বই তরুণের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় এবং তাকে আত্মপরিচয় খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
বই পড়ার অভ্যাস কেবল জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, বই চিন্তাকে শাণিত করে। এটি নিজের ভেতর নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সূচনা। যে তরুণ বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, সে কেবল নিজের নয়, বরং সমাজের ভবিষ্যৎকেও আলোকিত করে। তাই আগামীর সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে প্রতিটি তরুণের হাতে বই থাকা অপরিহার্য।
বই–সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ
সাবিকুন্নাহার আঁখি
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপটে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ডিজিটাল কনটেন্ট ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতা আমাদের জানার পরিধি বাড়ালেও চিন্তার গভীরতা ও সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ মানবিকতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং মূল্যবোধের বিকাশে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। যান্ত্রিকতার এই ভিড়ে নিজেকে বিকশিত করতে এবং একাকিত্ব কাটাতে বই-ই শ্রেষ্ঠ সঙ্গী। তাই সময়ের প্রয়োজনে সুস্থ ও উন্নত সমাজ গড়তে বই পড়ার সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এখন সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েই আমাদের আবার বইয়ের পাতায় ফিরে আসা জরুরি। নইলে আমরা হয়তো অনেক অনেক পেছনে পড়ে যাব।
বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু
মো. জাহিদ হাসান
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো বই, যা আমাদের সামনে অজানাকে জানার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। একে মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু বলা হয়। কারণ বই কেবল তথ্য দেয় না, বরং জীবনের কঠিন সময়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। বর্তমানে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তিতে বই পড়ার অভ্যাস আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা একটি জাতির অগ্রগতির পথে বাধা। এই প্রবণতা কাটিয়ে উঠে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করা এখন সময়ের দাবি। বই কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, বরং উন্নত বর্তমান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রধান পথপ্রদর্শক। তাই সুস্থ সমাজ গড়তে বইয়ের সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্ব গড়া জরুরি।