এ অঞ্চলের মানুষের সহযোগিতা ও মতামত নিয়েই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে বলে বলেছেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ড. মো. ইস্রাফীল শাহীন।
তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও মান উন্নয়নে স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক লিখিত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষও উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন প্রত্যাশায় উজ্জীবিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে এবং জনপদে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ড. মো. ইস্রাফীল শাহীন তার বক্তব্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং এলাকার উন্নয়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রীর আস্থা ও পরামর্শের ফলেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন।
নতুন উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের পদকে তিনি কোনো গৌরব নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে উচ্চশিক্ষার বিকাশ ঘটানো একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ, যা সবার সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, “ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের প্রতিষ্ঠান। এটিকে গড়ে তোলার দায়িত্বও আপনাদের। আপনাদের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলাকে সমৃদ্ধ করতে চাই।”
গত ৭ই মে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যোগদানের পর প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উপাচার্য ড. মো. ইসরাফীল শাহীন বলেন, “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে এ বং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে, যা ঠাকুরগাঁওবাসী ও দেশবাসীর গৌরব হয়ে উঠবে।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ,মশিউর রহমান, আব্দুল লতিফ , ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠুসহ জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা ।
নবীন হাসান/এসএন