নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন ও সমাজে সব স্তরে সাম্য প্রতিস্থাপন, যা সমাজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তেমনই এক স্মরণীয় ইতিহাসের সাক্ষী, লুসি স্টোনের কর্মযজ্ঞ।
যার অবদানে সমাজে নারীর অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন হয়। লুসি স্টোন, যিনি সারা বিশ্বে পরিচিত একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী, বক্তা, নারী অধিকারকর্মী ও বিলোপসাধনকারী হিসেবে। লুসি তার সংগ্রামী জীবনে নারী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার প্রসারে প্রেরণামূলক অবদান রাখেন।
১৮১৮ সালের ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট ব্রুকফিল্ডে জন্ম হয় লুসি স্টোনের। কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি, যেখানে মেয়েদের শিক্ষালাভের বিষয়টি সীমিত ছিল। তবে পরিবারের আকাঙ্ক্ষায় শিক্ষা লাভে আগ্রহী হয়ে ওঠেন স্টোন।
লুসি স্টোন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ১৮৪৭ সালে, ওল্ড লেইডি সেন্টার কলেজ থেকে। এ সময় তিনি নারীদের প্রতি বৈষম্য, ভোটাধিকারের অভাব ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন হন। বেছে নেন সংগ্রামী পথ! নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লড়াকু নারী সৈনিক হিসেবে।
নারী আন্দোলন সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ছিলেন লুসি স্টোন। তিনি তার লেখায় নারী স্বাধীনতার পক্ষে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাৎপর্যপূর্ণ আওয়াজ তোলেন। সালটা তখন ১৮৪৭, নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীদের ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিমূলক বক্তব্য দেন লুসি স্টোন। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নের দৃঢ় প্রচেষ্টা ব্যাপক বিস্তৃতি পায় স্টোনের হাত ধরেই। সমাজ থেকে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করার মধ্য দিয়ে একজন বিলোপসাধনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও বেশ সমাদৃত অবস্থানে রয়েছেন স্টোন। সমাজ থেকে নারীবৈষম্য দূরীকরণ, সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর উন্নতি সাধন ছিল লুসি স্টোনের দৃঢ় চেতনা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নারীদের ভোটাধিকার অর্জনের জন্য ১৮৬৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘American woman suffrage Association’. ফলে তিনি নারী ভোটারদের আন্দোলনের প্রভাবশালী নেত্রী বনে যান। লুসি স্টোনই প্রথম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নারীর ভোটাধিকার নিয়ে। নারীদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত ছিল তার উল্লেখযোগ্য অবদান।
দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই শেষে, ১৮৯৩ সালে মারা যান লুসি স্টোন। তার সংগ্রামী প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। যে কারণে ইতিহাসের অধ্যায়ে তিনি আজও স্মরণীয়।
হাসান