ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গেট এনগেজড’ সম্মেলনের ১৩তম আসর। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ ও তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের ৪৩জন কো-অর্ডিনেটর অংশ নেন।
নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা, নাগরিক কাজে অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে শেখা ছিল এই সম্মেলনের মূল বিষয়। এবারই প্রথম এই সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হলো। গত বছর লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে ইউরোপিয়ান হিউম্যানিটিজ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সাতদিনব্যাপী এই কনফারেন্স শেষ হয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন এবং বার্ড কলেজের সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্ট যৌথভাবে ‘জিএইচইএ২১ গেট এনগেজড কনফারেন্স ২০২৬: স্টুডেন্ট অ্যাকশন অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ’ আয়োজন করে।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের তরুণ নেতা, সিভিক এনগেজমেন্ট কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। তারা নিজেদের কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগগুলো সবার সামনে তুলে ধরেন এবং এগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এই কনফারেন্সের বিভিন্ন আয়োজনে লিডারশিপ, কমিউনিকেশন্স, নেটওয়ার্কিং এবং টেকসই সিভিক এনগেজমেন্ট দক্ষতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জিএইচইএ ২১ বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য হলো লিবারেল আর্টস ও বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীরা যাতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করতে পারে সেভাবে তাদের প্রস্তুত করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব যেসব জটিল সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলো মোকাবেলা করতে হলে আমাদের দরকার গ্লোবাল সিটিজেন। যাদের সরাসরি সমাজের মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা আছে। তিনি বলেন, “ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সমাজের জন্য কাজ করার ধারণাটা পাঠক্রমের বাইরের কোনো বিষয় নয়, এটা আমাদের কারিকুলামের একটা অংশ। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা এভাবেই গড়ে উঠুক।
তারা এখানে শেখে যে লিডারশিপ কোনো পদবি নয়। এটি হলো একটি চর্চার বিষয়। মানুষের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনাই হলো লিডারশিপ। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, কেবল প্রযুক্তি ও বিদ্যমান তথ্যের ওপর নির্ভর করে অর্থবহ উদ্ভাবন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে শুধু বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিলে হবে না। এর সঙ্গে সমাজ, লিবারেল আর্টস এবং মানবিক প্রযুক্তির বিষয়গুলোও যুক্ত করতে হবে।”
বার্ড কলেজের এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও একাডেমিক অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক ভাইস- প্রেসিডেন্ট জোনাথন অ্যাডাম বেকার উচ্চশিক্ষায় সিভিক এনগেজমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বার্ড কলেজের সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্টের পরিচালক এবং জিএইচইএ২১-এর ভাইস- চ্যান্সেলর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক কোলাবোরেশনের মাধ্যমে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই মডেল আমরা দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে পারি।” ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন এবং জিএইচইএ২১-এর ফ্যাকাল্টি সদস্য প্রফেসর সামিয়া হক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমৃতা মাকিন ইসলাম। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি সম্মেলনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের দক্ষতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক কাউন্সিলের কো-চেয়ার ড. সু এল ম্যাক্সাম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিভিক এনগেজমেন্ট বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নাবিল বি আরিফ।
সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবং জিএইচইএ২১-এর ফ্যাকাল্টি সদস্য ফাহমিদা রহমান। কেলনার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং বার্ড কলেজ সেন্টার ফর সিভিক এনগেজমেন্টের শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনের প্রাইম সাসটেইনেবল পার্টনার ছিল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, ফিনট্রা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং স্কয়ার গ্রুপ। স্ট্র্যাটেজিক সাসটেইনেবল পার্টনার ছিল বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কটন গ্রুপ বাংলাদেশ, গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্পাহানি গ্রুপ এবং স্টেপ ফুটওয়্যার।