ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে মাসব্যাপী “উদ্যোক্তা উন্নয়ন শীর্ষক” প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়নে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচি ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’ প্রকল্পের আওতায় এই “উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি”আয়োজন করা হয়েছে।
বগুড়া অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বিকাশ ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার ১৫ জুন ২০২৬, বগুড়ার বনানী এলাকায় গাক টাওয়ারে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া কার্যালয়ের পরিচালক (অ্যাডমিন) সরদার আল ইমরান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো: আইয়ুব আলী, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো: আব্দুল মজিদ প্রামানিক এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যবসা পরিকল্পনা, বাজারজাতকরণ, অর্থায়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকগণ।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরী, বিদ্যমান ব্যবসাকে আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণ তথা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এই কর্মসূচি।
সম্প্রতি দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং অঙ্গনের সেরা ক্যাম্পেইনগুলোকে স্বীকৃতি জানিয়ে লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডের গালা। এই আসরে ২৬টি আলাদা ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয় মোট ৮৯টি ক্যাম্পেইন।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় ও ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড পেশাজীবী, এজেন্সি নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ২৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চালু থাকা ক্যাম্পেইনগুলো মনোনয়নের জন্য বিবেচিত হয়। এবার প্রতিযোগিতার উত্তাপ ছিল রেকর্ড পর্যায়ে—৬৬টি প্রতিষ্ঠান হতে জমা পড়ে ১,০৭২টি মনোনয়ন। সেরা ক্যাম্পেইন বাছাইয়ে অনুসরণ করা হয় সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো দুই ধাপের জুরি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া।
প্রথম ধাপে শর্টলিস্টিং পর্বে ৮টি জুরি প্যানেলে ১১৩ জন বিশিষ্ট জুরি ক্যাম্পেইনগুলো যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন। এরপর শর্টলিস্ট হওয়া ক্যাম্পেইনগুলো ওঠে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ গ্র্যান্ড জুরি পর্বে, যেখানে ৮টি গ্র্যান্ড জুরি সেশনে ১১০ জন স্বনামধন্য ক্যাটাগরি বিশেষজ্ঞ চূড়ান্ত মূল্যায়ন করে বেছে নেন সেরাদের সেরা।
চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে ৬৩টি ক্যাম্পেইন ব্রোঞ্জ, ২০টি ক্যাম্পেইন সিলভার এবং ৬টি ক্যাম্পেইন গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। উৎকর্ষের সর্বোচ্চ মান অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি থেকে এবার কোনো গ্র্যান্ড প্রিক্স দেওয়া হয়নি। জমকালো এই গালায় উপস্থিত ছিলেন ৫০০-রও বেশি ডিজিটাল মার্কেটিং ও ব্যবসায়িক পেশাজীবী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছর ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমাদের খাত কতদূর এগিয়েছে, আর কতদূর এগোনো সম্ভব। মার্কেটিং এখন আর কেবল গল্প বলা নয়; এটি এখন রিয়েল-টাইম এনগেজমেন্ট, হাইপার- পারসোনালাইজেশন আর তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়। আজ যাদের আমরা সম্মান জানাচ্ছি, সেই ক্যাম্পেইনগুলোই প্রমাণ করে—বাংলাদেশের মার্কেটাররা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। এই অ্যাওয়ার্ড শুধু উৎকর্ষের স্বীকৃতি নয়; এটি আমাদের সবার প্রতি এক চ্যালেঞ্জ—উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার, নতুন কিছু পরীক্ষা করার এবং বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সম্ভাবনাকে নতুন করে গড়ার।”
অ্যাওয়ার্ড পর্বের আগে একই ভেন্যু লা মেরিডিয়ান ঢাকায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ১২তম ডিজিটাল সামিট। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে এই সামিটে বক্তা ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে যোগ দেন দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, বিজ্ঞাপন ও ক্রিয়েটিভ পেশাজীবী, ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া ও মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট, এজেন্সি নির্বাহী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
“রিথিংকিং ডিজিটাল – স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সামিটের আলোচনায় উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা প্রত্যাশা, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন এবং সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্মিলনে প্রতিষ্ঠানগুলোর পথচলার নানা দিক। সামিটে ছিল ৩টি কিনোট সেশন, ৩টি প্যানেল ডিসকাশন, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি এবং ১টি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ।
কিনোট সেশনে বক্তা হিসেবে ছিলেন তানভীর ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, কাজী মিডিয়া লিমিটেড; দ্রাবির আলম, চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর, এক্স – ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সি; এবং সালেহ ঘানায়েম, হেড মেটাপ (মিডল ইস্ট, টার্কি, আফ্রিকা অ্যান্ড পাকিস্তান), ইমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ, টিকটক।
দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে ভোক্তার পুরো যাত্রাপথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অ্যাটেনশন- ড্রিভেন মার্কেটিং থেকে ইন্টেলিজেন্স-ড্রিভেন এনগেজমেন্টে রূপান্তর, নতুন ডিসকভারি ইকোসিস্টেমের উত্থান, ক্রিয়েটর ইকোনমি এবং তথ্য, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—যা দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে ব্র্যান্ডের প্রাসঙ্গিক থাকা ও ভোক্তার সঙ্গে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ার পথ দেখায়।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ড ও ১২তম ডিজিটাল সামিটের পরিবেশনায় ছিলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই); সঞ্চালনায় ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর; স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার – অ্যালেফ গ্রুপ, ইনক, বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ); নলেজ পার্টনার – মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি); হসপিটালিটি পার্টনার – লা মেরিডিয়ান ঢাকা; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার – টার্কিশ এয়ারলাইনস; এবং পিআর পার্টনার – ব্যাকপেজ পিআর।
এবি ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব মো. ফজলুর রহমান, এফসিএ নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ থেকে তার এই নিয়োগ কার্যকর হয়।
এই দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবি ব্যাংকে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তার নেতৃত্বে ব্যাংক আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করে।
জনাব রহমান একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ব্যাংকিং, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ ব্যাংকিয়ে নেতৃত্বদানের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি টি লিমিটেডের মালিকানাধীন ‘মির্জাপুর চা-বাগান’ এবারো শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার’ জিতে নিয়েছে। এছাড়াও ইস্পাহানির মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক ‘জেসমিন আক্তার’ ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে তৃতীয়বারের মত পুরস্কার অর্জন করেছেন।
জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬’ এর পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব মোঃ মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ।
‘শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা-বাগান’ ক্যাটাগরিতে ইস্পাহানির মির্জাপুর চা বাগানের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব মির্জা সালমান ইস্পাহানি ও ইস্পাহানি গ্রুপের পরিচালক জনাব মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি। এছাড়াও ইস্পাহানির নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক ‘জেসমিন আক্তার’ এবার ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
দেশের চা-শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ‘জাতীয় চা পুরস্কার’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব জনাব মোঃ আতাউর রহমান খান, এনডিসি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ,এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি; ‘টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান জনাব শাহ্ মঈনুদ্দীন হাসান এবং ‘বাংলাদেশীয় চা সংসদ’ এর সভাপতি জনাব কামরান টি রহমান। এছাড়াও বাংলাদেশের চা শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিগণ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডিজিটাল রূপান্তরের পরিবর্তিত বাস্তবতা, কৌশল, গল্প বলা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের নতুন দিক নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ১২তম ডিজিটাল সামিট।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ সামিটের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় এবং ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন ও বিপণন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী নেতা, প্রযুক্তিবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল 'রিথিংকিং ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স'। দিনব্যাপী আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বদলে যাওয়া ভোক্তা আচরণ, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন এবং প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
আয়োজনে বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে হলে কৌশলগত স্পষ্টতা, সৃজনশীল উৎকর্ষ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। তাদের মতে, ডিজিটাল এখন আর শুধু একটি চ্যানেল নয়; বরং এটি ব্যবসার প্রবৃদ্ধি, আস্থা ও প্রাসঙ্গিকতার মূল ভিত্তি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ সিইও ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, প্রযুক্তি বাজার ও ভোক্তা আচরণকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য, সৃজনশীলতা ও কৌশলগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
সামিটে তিনটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল আলোচনা, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি এবং একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ অনুষ্ঠিত হয়। কিনোট সেশনগুলোতে বক্তব্য দেন কাজী মিডিয়া লিমিটেডের সিইও তানভীর ফারুক, এক্স-ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সির সিওও অ্যান্ড ডিরেক্টর দ্রাবির আলম এবং টিকটকের এমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ (মেটাপ) বিভাগের প্রধান সালেহ ঘানায়েম।
সেশনগুলোতে আলোচনায় উঠে আসে অ্যালগরিদম-চালিত ডিজিটাল বিশ্বে মানবকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, সোশ্যাল-ফার্স্ট মার্কেটিং, ক্রিয়েটর ইকোনমির উত্থান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা এবং ব্র্যান্ড এনগেজমেন্টের ভবিষ্যৎ।
প্যানেল ও ইনসাইট সেশনে অংশ নেন গুগল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পার্টনার ডিরেক্টর আহসানুর রহমান, অ্যাক্সেনটেক পিএলসি’র হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুনাফ মোজিব চৌধুরী, ইগনিশিয়া থ্রি সিক্সটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা উম্মে সালমা ঝুমুর, গিকি সোশ্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাদী হাসান সাগর, এফসিবি বিটোপির নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ খান ইমরান, ফাস্টকম এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইয়াসিন নুর এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রফিউদ্দিন আহমেদসহ অনেকে।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ডিজিটাল সামিট বর্তমানে দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং ও যোগাযোগ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান-বিনিময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন ডিজিটাল কৌশল, উদ্ভাবন এবং শিল্পের রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এবারের আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল অ্যালেফ গ্রুপ, বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ)। নলেজ পার্টনার ছিল মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি), হসপিটালিটি পার্টনার লা মেরিডিয়ান ঢাকা, অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর।
এবারের সামিটকে আয়োজকরা ডিজিটাল কৌশল, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্তরা/