উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধের অবশিষ্ট অংশ। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা শুরু করেছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে হঠাৎ করে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। হুমকির মুখে আরও অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা। এ ছাড়া গত কয়েক দিন ধরে জেলার চৌহালী উপজেলায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অনেককে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশে নিচে বসবাস করছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৮ জুন থেকে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে নদীর পানি কখনও কমছে আবার কখনও বাড়ছে। এখন বর্ষা মৌসুম। পানি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় মাত্র ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বাহুকা গ্রামের স্থানীয় যুবক মোশারফ হোসেন বলেন, ’হঠাৎ করেই নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আমরা যারা নদীর কিনারে বসবাস করি তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা আছমত আলী বলেন, নদীর ডান তীরের ব্লক ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে খবর দিলে তারা এসে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু করেছে। এর আগে আমাদের অনেক জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ফলে চরম ভয় কাজ করছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে পানির তীব্র স্রোতে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
সিরাজুল শিশির/খাদিজা রুমি/