স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) বেড বাড়ানো হবে। সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে রোগীরা যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) চমেক হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘চমেক হাসপাতালের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যাতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা যায়, বিষয়টি বিবেচনা করব। চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করা হবে। এখানকার মানুষ যেন দ্রুত চিকিৎসাসেবা পান, সে উদ্যোগ নেব।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করা হবে। চিকিৎসাসেবাকে আমি মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই। দুর্গম এলাকার মানুষদের নগরের হাসপাতালে আসা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই আমি চিকিৎসাকে গরিব ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘অনেক চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়, বাসায় হামলা হয়। রোগী মারা গেলে কথায় কথায় হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয়। সেটি আমি মেনে নিতে পারি না। পাশাপাশি চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা দেওয়া, রোগীকে অবহেলা করা, সেটিও আমি মেনে নেব না। রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী চমেক হাসপাতালের ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে এখানে আসিনি। সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছি। আমি যে হলের রুমে থাকতাম, সেখানে এখন যে শিক্ষার্থী থাকেন তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার ‘সেই’ সিটে কিছুক্ষণ বসেছি। এ কলেজে আমার আবেগ-অনুভূতি মিশে আছে। আমার মনে হলো আমি সেই শিক্ষাজীবনে ফিরে এসেছি। অথচ এখন থেকে ৬১ বছর আগে পাস করে বের হয়েছি।”
মন্ত্রী বলেন, ‘নেপালের একজন রোগীকে চিকিৎসা না করে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত থেকে। সেই রোগীকে আমি বাংলাদেশে এনে চিকিৎসা দিয়েছি। সফল হয়েছি। আমাদের ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় আছে। বিশ্বের সেরা ডাক্তারও হওয়া যাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করতে হবে। আমি এ মেডিকেল কলেজে পড়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছি। আপনারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হবেন, আমি সেটিই কামনা করি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাক্তার সাহেনা আক্তার, স্বাস্থ্য সচিব মো. আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান প্রমুখ। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চলমান প্রকল্প বার্ন ইউনিট ও ভেনম রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করেন।