বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ ৬৮ হাজার ৩২৬ টন কয়লা নিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে ভিড়েছে বাল্ক ক্যারিয়ার। সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে এ কয়লা নিয়ে এসেছে জাহাজটি।
রবিবার (১০ মার্চ) জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে আসে।
সোমবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষ পাইলটরা চারটি টাগবোটের সাহায্যে জাহাজটি মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাইলো জেটিতে ভেড়ান।
চীনের পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘এমভি গু ইয়ান ৮৮’। ইন্দোনেশিয়ার তাবনীয় বন্দর থেকে এ কয়লা নিয়ে এসেছে জাহাজটি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৩০ মিটার ও ড্রাফট (পানিতে নিমজ্জিত অংশের গভীরতা) সাড়ে ১২ মিটার, যা এ পর্যন্ত মাতারবাড়ীতে আসা জাহাজের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জাহাজের হ্যাজ খুলে ‘আনলোডার’ নামক অত্যাধুনিক জাপানি মেশিনে কনভেয়ার বেল্টের সাহায্যে চলছে কয়লা খালাস কার্যক্রম। অত্যাধুনিক এই যন্ত্রের সহায়তায় বুধবার (১৩ মার্চ) কয়লা খালাসের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এসজিএস বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা রকিবুল হাসান খবরের কাগজকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরে যত কয়লাবাহী জাহাজ এসেছে এর মধ্যে ‘এমভি গু ইয়ান ৮৮’ জাহাজটি সবচেয়ে বড়। জাহাজটির ৮০ হাজার টন পর্যন্ত কয়লা ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে মাতারবাড়ীতে এই জাহাজে ৬৮ হাজার ৩২৬ টন কয়লা আনা হয়েছে। এটা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। আমরা দ্রুত খালাস করার চেষ্টা করছি। জাপানি মেশিনে কনভেয়ার বেল্টের সাহায্যে প্রতি ২০ মিনিটে ২ হাজার টন কয়লা খালাস করা সম্ভব হচ্ছে।’
জিপি শিপিং লাইন্স লিমিটেডের কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় জাহাজ মাতারবাড়ীতে আগে কখনো ভেড়েনি। আমরা দিন দিন আশার আলো দেখছি। আমরা আশা করি সামনে আরও বড় জাহাজ মাতারবাড়ীতে ভেড়ানো সম্ভব হবে।’
এর আগে গত বছরের ২৫ এপ্রিল মাতারবাড়ীতে বড় একটি জাহাজ ভিড়েছিল। পানামা পতাকাবাহী ‘অউসো মারু’ নামক ওই জাহাজটির দৈর্ঘ্য ছিল ২২৯ মিটার এবং ড্রাফট ছিল সাড়ে ১২ মিটার। তখন ওই জাহাজটি ছিল মাতারবাড়ীতে ভেড়া সবচেয়ে বড় জাহাজ। কিন্তু চায়না পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি গু ইয়ান ৮৮’ ভেড়ার কারণে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেল।