ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীসহ জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বসেছে কয়েক শ পশুর হাট। তবে হাটগুলোতে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীই বেশি দেখা গেছে।
নগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন হাট ইজারাদার ও গরু বিক্রেতারা। এসব হাটে স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। তবে এ বছর গরু-ছাগলের দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছে সাধারণ পশু ক্রেতা ও হাট পরিচালকরা।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ গরুর হাটের স্থানীয় দালালদের নিয়ে। তাদের উৎপাতের কারণে বাজারে গিয়ে সঠিক দামে গরু-ছাগল কিনতে পারছেন না তারা। আবার গরু-ছাগল বিক্রি করে সঠিক দামও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। ফলে বাজারে গরু-ছাগলের দাম ওঠানামা করছে।
নগরীর বাঘিয়া স্থায়ী গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, মেহেরপুর থেকে আসা সাফিজ উদ্দিন নামে গরু বিক্রেতা বিভিন্ন আকারের ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন। এগুলোর দাম হাঁকানো হচ্ছে আকারভেদে ৯০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু স্থায়ী কিছু দালালদের কারণে তা বিক্রি করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ‘গরুর কাছে ক্রেতা আসার সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজন দালাল হাজির হচ্ছেন। তারা ক্রেতার সামনে নানা ধরনের দাম হাঁকাচ্ছেন। এতে করে হাটে গরু বেচাকেনাই দায় হয়ে পড়েছে। তাই গরুগুলো বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রার হাটে নিয়ে যাচ্ছি।’
নগরীর রুপাতলী হাটে মেহেরপুর থেকে আসা আরেক গরু ব্যাপারী বলেন, ‘গত বুধবার এই হাটে গরু নিয়ে এসেছি। গত দুদিন এই হাটে যারা এসেছেন, তারা প্রায় সকলেই ছিলেন দর্শক। গরু দেখে দাম জেনেছেন। ঘুরে ফিরে চলে গেছেন। কিন্তু কেনেননি। গত বৃহস্পতিবার থেকে সামান্য বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে বাজার জমেনি।’
বাঘিয়ার স্থায়ী গরুর হাট পরিচালক একরামুজ্জামন বলেন, ‘হাটের বেচাকেনা ওইভাবে শুরু হয়নি। গত এক সপ্তাহে ধরে গড়ে ৫ থেকে ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি গরু বিক্রি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা গরু ও ছাগল নিয়ে এ হাটে এসেছেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতা পাচ্ছেন না। যারা আসছেন তারাও ছোট বা মাঝারি আকারের গরু খুঁজছেন। গত বছর যে গরুর দাম উঠে ছিল সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, এবার সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২ লাখ টাকার বেশি। ছোট আকারের যে গরু গত বছরও ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল, ব্যাপারীরা সেই গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।
কাউনিয়া বিসিকসংলগ্ন হাটে গরু কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘এ বছর গরু-ছাগলের দাম অনেকটা বেশি। তাই বাজার ঘুরে দেখছি। কম দামে গরু পেলে কিনব, না হলে ছাগল দিয়ে কোরবানি দেব।’
জেলা প্রশাসনের স্থায়ী সরকার বিভাগ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার শাখা সূত্র জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুক্রবার পর্যন্ত নগরী ও জেলার ১০টি উপজেলায় ৮২টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি স্থায়ী হাটের পাশাপাশি আরও তিনটি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বরিশাল প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৯৭৪টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। আর পশু মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৭টি। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু রয়েছে ১ হাজার ৫৮৩টি।