চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানাধীন হারবাতলীতে খাল উদ্ধারে যৌথ অভিযানের সময় ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ পত্রিকার সাংবাদিক শফিকুল ইসলামকে মারধর করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে হারবাতলীর কালীছড়া খাল উদ্ধার অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত সিদ্দিকী।
বুধবার পাহাড় ব্যবস্থপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল থেকে মহানগরের লেক সিটি আবাসিক এলাকায় কালীরছড়া খাল দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে ১১টি সংস্থার যৌথ দল। সেখান থেকে বেশকিছু স্থাপনা উচ্ছেদের পর অভিযান চালানো হয় হারবাতলী এলাকায়। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত সিদ্দিকীকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় জনতা এবং উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে জনগণ তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা পরিবেশকর্মী ও ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম উপস্থিত হলে তার ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতার একটি অংশ। তারা শফিকুলকে ব্যাপক মারধর করেন।
শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত হতেই কোনো কথাবার্তা ছাড়াই কিছু লোকজন আমাকে মারধর করেন। পরিবেশ-প্রকৃতিকে সব সময় ভালোবাসি এ জন্য প্রশাসনের অনুরোধে অভিযানকে সহযোগিতা করতে গিয়েছিলাম।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরাফাত সিদ্দিক খবরের কাগজকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্থানীয় লোকজন আমাকে ঘিরে ধরেন এবং কাজে বাধা দেন। এ সময় তারা নানারকম প্রশ্ন করতে থাকেন। আমি স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম। তাদেরকে অনেকটাই বোঝাতে সক্ষম হচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে শফিকুল ইসলাম আসায় জনগণ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কেন এটা করল, তা আমি তা তাৎক্ষণিক খতিয়ে দেখিনি। বিভিন্নভাবে জনগণকে বোঝানোর পর আমরা আবার অভিযান শুরু করি। আমি যতটুকু জানি, পুলিশ এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোজিনা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যাই। এর মধ্যে শফিকুলের সঙ্গে কিছু লোকজন বিবাদে জড়ায়। তারা বলেন যে, গতকাল আপনি ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন কিন্তু দেইনি। সে জন্য জায়গা ভাঙতে এসেছেন। তাকে মারধর করা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু সেখানে মামলা হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এরপরও তিনি চাইলে মামলা বা জিডি যা খুশি করতে পারেন।’
মনির/সুমন/অমিয়/