ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে খুলনায় বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হলেও কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙার খবর পাওয়া যায়নি। কয়েকটি জায়গায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ জিও ব্যাগ ও সিনথেটিক ব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে।
জলোচ্ছ্বাসে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়লেও তা এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেনি। ঘূর্ণিঝড়ে সম্ভাব্য এলাকায় ৬০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু ঝোড়ো বাতাস না হওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে সেখানে কেউ আশ্রয় নেয়নি। তবে যেকোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপকূলবাসী। পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিউর সানা বলেন, ‘যে জায়গায় বাঁধ ভাঙে সেখানে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিছু দিনের মধ্যে আরেক জায়গায় ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। চলতি বছরেই জোয়ারের পানির চাপে কয়েক দফা বাঁধ ভেঙে গেছে। কিন্তু কখনই স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয় না।
জানা যায়, খুলনা জেলার দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা ২৫-৩৫ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে পাইকগাছার দেলুটি, গড়ইখালী, লস্কর, রাড়ুলী, লতা, গদাইপুর ও সোলাদানাসহ সাত ইউনিয়নের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে আছেন। এসব পয়েন্টে বাঁধ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
পাউবো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ব্যয়ভার অনেক। তারপরও খুলনার দাকোপে ৩১ নম্বর পোল্ডারে বড় আকারের বাজেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাঁধে দুর্বল ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে জরুরি মেরামত কাজ চলছে। ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ, জিও ফিল্টার, সিনথেটিক ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাঁধের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।