চার বছর পেরিয়ে গেলেও শরীয়তপুর-ঢাকা পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের কাজের নেই অগ্রগতি। কাজ হয়েছে মাত্র অর্ধেক। শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর নাওডোবা সংযোগ সড়ক পর্যন্ত মাত্র ২৭ কিলোমিটার পথ। এর মধ্যে ১৩ কিলোমিটার রাস্তা একেবারে খানাখন্দে ভরা।
দুর্ভোগ নিয়েই এই রোডে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সড়কটি পাড়ি দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। দুই থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
পদ্মা সেতুর নাওডোবা প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর জেলা শহর পর্যন্ত দুই লেনের ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের জন্য ২০২০ সালের মার্চে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য তিনটি প্যাকেজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৫৫ ভাগ। সর্বশেষ ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ তদারকি করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তেমন লোকবল নেই। প্রয়োজনের তুলনায় কম শ্রমিক দিয়ে চলছে সড়কের উন্নয়ন কাজ। সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে পুরো সড়কেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কটিতে চলাচলকারী যাত্রীরা। একটু বৃষ্টি হলেই ভোগান্তি বাড়ে কয়েক গুণ।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলার মানুষ যাতায়াতের সুযোগ সুবিধা পেলেও শরীয়তপুরবাসী জমি দেওয়া আর ভোগান্তি ছাড়া কিছুই পাননি। জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী এনামুল হক এনাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু থেকে আমরা সবচেয়ে কাছের জেলার বাসিন্দা। এ সেতুর জন্য আমরা জমিজমা দিয়েছি। আর আমরাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। ঢাকায় যেতে আমাদের ৩ ঘণ্টার পরিবর্তে ৬ ঘণ্টা লাগছে।’
আসাদ খান নামে ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে সুস্থ মানুষ গেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর অসুস্থ রোগীদের তো দুর্ভোগের শেষ নেই। আমাদের অঞ্চলের নেতাদের কাজ ছিল শুধু আওয়ামী সরকারের দালালি করা।’
বাসমালিকরা জানান, কচ্ছপগতির নির্মাণকাজ ভোগাচ্ছে পরিবহন মালিকদেরও। প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। যে লাভ হয় সেটা গাড়ি মেরামত করতেই চলে যায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, নির্মাণাধীন সড়কের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পদ্মা সেতু তৈরি হওয়ার পর একটু আলোর মুখ দেখলেও রাস্তা সংস্কারের কাজ না হওয়ায় ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের বাস ব্যবসায়ী লুৎফর মাদবর বলেন, ‘সড়কের কারণে আমাদের সময় বেশি লাগছে। জ্বালানি খরচ বেশি হচ্ছে। কিছু দিন পরপরই গাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ছে। এখান থেকে যে আয়, সেটা এই মেরামত খরচেই ব্যয় হয়ে যায়। দ্রুত এই সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’
জাজিরা চাষি বাজারের কাঁচামাল কিনতে আসা ব্যবসায়ী সোহেল সরদার বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে এ অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হয়েছে। আমরা এ বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে ঢাকায় নিয়ে যাই, তবে এই মাল কিনে যখন ঢাকায় যাই, তখন এ রাস্তার কারণে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
মীর হাবিবুল আলম কনস্ট্রাকশনের সহকারী ম্যানেজার মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কাজ ঠিকঠাক মতো চলছে। রাস্তা মেরামত করতে যে সরঞ্জাম প্রয়োজন সব আনা হয়েছে। খুব শিগগির কাজ শেষ হবে।’ শরীয়তপুর সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের জন্য কাজের ধীরগতি হয়েছে। এ বছরের ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে কাজ শেষ হয়েছে ৫৫ শতাংশ। প্রকল্প আগামী ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, সব জটিলতা কাটিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’