কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কিনে ন্যায্যমূল্যে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রির কার্যক্রম জামালপুরে শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহায়তায় শহরের ফৌজদারি মোড়ে ‘বিশুদ্ধ জামালপুর’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠন এ উদ্যোগ নিয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত এই বিপণন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ‘বিশুদ্ধ জামালপুর’ মূলত কৃষিকেন্দ্রিক উদ্যোক্তাদের একটি সংগঠন।
‘বিশুদ্ধ জামালপুর’র সভাপতি শামসুল হক বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা একদিকে যেমন ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তেমনি বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের প্রচলিত অন্যান্য বাজারের পণ্য মূল্যের তুলনায় এখানে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য মূল্যের ব্যবধান কমে এসেছে। ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।’
সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সংগঠনটির সহসভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়া ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আফরোজা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আলু, বেগুন, শসা, লাউ, কাঁচা মরিচ, কচু, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের পাশাপাশি ডিম, সরিষার তেল, হলুদ-মরিচের গুঁড়াসহ বিভিন্ন পণ্য কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
পণ্য কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, শহরের বাজারের পণ্যের দামের তুলনায় এখানকার দাম কিছুটা কম। স্বল্প আয়ের নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এটি একটি বড় উদ্যোগ। তবে কৃষিপণ্যের পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ বিক্রি হলে দরিদ্র মানুষরা আরও উপকৃত হতেন।
জামালপুরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘বিক্রেতারা প্রত্যেকেই কৃষক। তারা সবাই কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্যোক্তা। অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে ৫ থেকে ১৫ টাকা কমে প্রতিটি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষক এখানে নিজেই পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করছেন। তাদের প্রশিক্ষণ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হবে।’