আগামী সোমবার (২ ডিসেম্বর) ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে পদযাত্রা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওইদিন ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্মারকলিপিও দেবে দলটি।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকাল তিনটায় চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুণ ইজহার। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, মাওলানা মীর ইদ্রিস। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের নায়েবে আমীর মাওলানা আলী ওসমান।
এর আগে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা মোড়ের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিপ্লব উদ্যানের দিকে যাত্রা শুরু করে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। পরে ২নং গেইট মোড়ে বিপ্লব উদ্যানের সামনে গোল চত্বরে বক্তব্য রাখেন হেফাজত নেতারা।
এসময় মুফতি হারুণ ইজহার বলেন, আমরা আগামী সোমবার বেলা ১১টায় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করব। সেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করব এবং ওনাদেরকে আমরা স্মারকলিপি দেব। এসময় তিনি নেতা-কর্মীদেরকে সেখানে হাজির হওয়ার অনুরোধ করেন।
ইসকন ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে বসতে চাচ্ছে জানিয়ে এসময় তিনি বলেন, আমরা কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে বসব না। আমাদের তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। ১) এসমস্ত হিন্দু সংগঠনগুলোকে ভারতের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ২) বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের যে গুজব ছড়ানো হয়েছে সেটি তাদেরকে পরিষ্কার করতে হবে। তাদেরকে বলতে হবে বাংলাদেশে হিন্দুরা মুসলমানদের সহাবস্থানে নিরাপদে রয়েছে এবং ভারতীয় মিডিয়ার চালানো সংবাদ মিথ্যা, ভুয়া, অপপ্রচার। ৩) আপনাদের বিভিন্ন সংগঠনে যেসব সন্ত্রাসী ঘাপটি মেরে রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে। এগুলো মেনে নিলে আমরা আপনাদের সঙ্গে সংলাপে বসব।
তিনি আরও বলেন, সনাতনী জাগরণ মঞ্চসহ হিন্দু সংগঠনগুলো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে। এখন তারা আইনের আওতায় আসার ফলে তারা আমাদের সঙ্গে ও সরকারের সঙ্গে ডায়ালগ করতে চায়। স্বৈরাচার পতনের পর আমরা তাদের মন্দির পাহারা দিয়েছি। অতি উদারতা দেখাতে গিয়ে আমাদের কোনো কোনো ভাই তাদের পূজা মণ্ডপেও গিয়েছে। যেটা আমরা সমর্থন করিনা। এতো উদারতা আর সম্প্রীতির পরও তারা আমাদের ভাইকে জবাই করে হত্যা করে সেটার জবাব দিলো।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের মূল লড়াই এসব সংগঠনের সঙ্গে নয়। আমাদের মূল লড়াই দিল্লির সঙ্গে। আমি বলেছি সাপের লেজ বাংলাদেশে হলেও মাথা দিল্লিতে। দিল্লি বাংলাদেশে কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে। কুকুরের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া নয়। দিল্লি বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার হাসিনাকে আমাদের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দিয়েছে। হিন্দুস্থান আমাদের জাতীয় নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধের নামে ফাঁসির মঞ্চে পাঠিয়েছে। হিন্দুস্থান আমাদের ওপর শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়সহ সব ধরনের আগ্রাসন চালিয়েছে। তারা যদি বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়ে আমাদের দেশ অস্থিতিশীল করতে চায় তাহলে আমরাও আমাদের যুদ্ধ অব্যাহত রাখব।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েল যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম মুছে দিতে। তারা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত যেন আমাদেরকে সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে না পারে সেজন্য আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা আগামী সোমবার ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করব। আমরা কোনো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করব না, বিশৃঙ্খলা করব না। আমরা শান্তিপূর্ণ থাকব। আমরা তৌহিদি জনতার পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ভারতীয় হাইকমিশনকে স্মারকলিপি দেব। সেখানে ব্যাপক গণজমায়েত হবে।
মনির/মাহফুজ/এমএ/