আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রংপুরে শেষ হয়েছে চলতি বছরের জোড় ইজতেমা।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ১২টায়। মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি মাওলানা মুনিব বিন ইউসুফ।
এ সময় মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, দেশের কল্যাণ, আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদ থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।
এ ছাড়া দেশে খাদ্য উৎপাদনে রহমতসহ নিপীড়িত নির্যাতিত ফিলিস্তিনি মুসলিমদের স্বাধীনতা কামনা করে দোয়া করেন তারা। এ সময় আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
মোনাজাতের আগে দেশের খ্যাতনামা মুরুব্বিরা বয়ান করেন। যাদের মধ্যে কাকরাইল মসজিদের মুরব্বি মাওলানা আব্দুল কাদের অন্যতম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমা। মাঝে দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে হেদায়েতি বয়ান শুরু হয়। এ সময় তাবলিগে সময় দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত প্রায় আধাঘন্টা ধরে চলে। এ বছর রংপুর নগরীর আমাশু কুকরুল রোডের নিউ জুম্মাপাড়া ঈদগাহ মাঠে তিন দিনব্যাপী এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ইজতেমা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রশাসনের পাশাপাশি ইজতেমা আয়োজকের পক্ষ থেকেও ছিলো স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও স্কাউট সদস্য।
তারাও তৎপর ছিলো, যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ইজতেমার শেষ পর্যন্ত কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি। হাড় কাঁপানো শীতে যাতে কোন মুসল্লি অসুস্থ হয়ে না পড়ে স্বেচ্ছাসেবীরা স্বাস্থ্য ক্যাম্প বসিয়ে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেন। সেই সঙ্গে ওষুধও বিতরণ করেন।
এর আগে ইজতেমার শুরু দিন পুলিশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাঠ পরিদর্শন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী। এসময় মুসল্লি এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায় এবং আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সেলিম সরকার/নাবিল/এমএ/