ইউটিউবে কমলা বাগানের ভিডিও দেখে স্বপ্ন বুনেছিলেন রাঙামাটির নানিয়ারচরের তৈচাকমা মৌজার হেডম্যান সুদত্ত চাকমা। চার বছর আগে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে তৈচাকমা দোসরপাড়ায় পরিত্যক্ত জমিতে সহস্রাধিক কমলা চারা দিয়ে গড়ে তোলেন এই বাগান।
এবার শতাধিক গাছে এসেছে ফলন। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী আর ক্রেতারা আসছেন এ বাগানে। ঘুরে দেখা, খাওয়া আর পছন্দের কমলা কিনে ফিরছেন গন্তব্যে। এখন বেকার ও তরুণরাও এমন বাগান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি থেকে বাগান দেখতে আসা খোকা চাকমা (২৪) বলেন, ‘ফেসবুকে দেখলাম কমলাগুলো খুবই সুন্দর। এ জন্য বাগানেই চলে এলাম। এখানে এসে মনে হচ্ছে, বিদেশের মাটিতে কোনো বাগানে আছি।’ ইগো চাকমা (২৫) বলেন, ‘কমলার ফলন দেখে ভাবছি নিজেই এমন একটা বাগান গড়ে তুলব। হাতের কাছেই দারুণ আইডিয়া।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান (৫০) বলেন, ‘বেকারদের বলব তারা যাতে সুদত্ত চাকমার কাছে এসে চারা ও পরামর্শ নিয়ে বাগান গড়ে তুলতে পারে। চাইলে গোটা জেলায় এই বাগান ছড়িয়ে দিতে পারে। তাহলে বাইরে থেকে কিনে আনা লাগবে না। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।’
কমলা বাগান ক্রেতা শান্তিপ্রিয় চাকমা বলেন, ‘বাগানি সুদত্ত চাকমার কাছ থেকে চার লাখ টাকায় কমলা কিনে নিয়েছি। এরই মধ্যে কমলা বিক্রি করেছি ৭ লাখ টাকার। আরও অন্তত ১৩ লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছি। আকারভেদে এসব কমলা ২০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।’
সুদত্ত চাকমা বললেন, ‘মূলত মোবাইলের মাধ্যমে ইউটিউবে কমলার ভিডিওগুলো দেখতাম। সেখান থেকেই চার বছর আগে এই বাগান গড়ে তুলি। কমলার আকার, মিষ্টতা আর ব্যাপক ফলনে আমি দারুণ খুশি। এরই মধ্যে চার লাখ টাকায় সব কমলা বিক্রি করে দিয়েছি। আর ১৫ লাখ টাকার কলম চারার আগাম অর্ডার পেয়েছি। এখন বাগান গড়ে তুলতে বেকারদেরও পরামর্শ দিচ্ছি। মানুষও বাগান গড়তে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সরকার চাইলে তিন পার্বত্য জেলায় কমলার বাগান ছড়িয়ে দিতে পারে।’
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘পার্বত্য জেলাগুলোতে দার্জিলিং ও চায়না, এই দুই জাতের বাইরেও বিভিন্ন উৎস থেকে চাষিরা কমলা চাষ করে থাকেন। আকর্ষণীয় সাইজ ও বাজারমূল্যও যথেষ্ট ভালো। আমদানি নির্ভরতা কমাতে বিশেষ এ অর্থকরী ফসলটির চাষাবাদ পার্বত্যাঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।