৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবু তাহের এবং হিসাবরক্ষক কাজী সুমনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মেহনাজ রহমানের আদালতে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। সাবেক স্থানীয়সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের আস্থাভাজন এই আইনজীবী ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, লেজার বইয়ে ওভাররাইটিং, ভুয়া ও দ্বৈত ভাউচার সৃজন, লেজার বইয়ের বিভিন্ন অংশে ফ্লুইড ব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহের ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই মেয়াদে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে হিসাবরক্ষক কাজী সুমনকে হাতে নিয়ে আত্মসাৎ করেন সর্বমোট ৪ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৭২০ টাকা।
এর মধ্যে প্রথম মেয়াদে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আত্মসাৎ করেন ৩ কোটির ৩০ লাখ ৩৮ হাজার ১৪৪ টাকা এবং দ্বিতীয় মেয়াদের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আত্মসাৎ করেন ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬ টাকা।
আইনজীবী সদস্যদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এর আগে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর সমিতির সাধারণ সভার প্রস্তাবক্রমে একই বছরের ২৪ নভেম্বর কার্যকরী কমিটির জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্য পদ স্থগিত করা হয় এবং একই সঙ্গে হিসাবরক্ষক কাজী সুমনকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনজীবীদের অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনায় সমিতির সাধারণ সভার প্রস্তাবক্রমে কার্যকরী কমিটির সভার সিদ্ধান্তে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হয় আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের বিরুদ্ধে। এ আত্মসাতে জড়িত ছিলেন হিসাবরক্ষক কাজী সুমনও। পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্য পদ বাতিল এবং বরখাস্ত করা হয় হিসাবরক্ষক সুমনকে। আইনজীবীদের আত্মসাৎ অর্থ ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। যার কারণে আত্মসাৎ অর্থ আদায়ে আইনজীবী সমিতির এ মামলা।
জহির/নাবিল/এমএ/