মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা সেতুতে দুটি এক্সপানশন বা মুভমেন্ট জয়েন্ট (সম্প্রসারণ সংযোগ) বেহাল। চলতি বছরের এপ্রিলে সেতুর সবগুলো সংযোগের সংস্কারকাজ করা হয়। তবে বড় দুটি সম্প্রসারণ সংযোগের কাজ করা হয়নি। ফলে এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সেতু পারাপারে অনেক ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন সেতু ব্যবহারকারীরা।
জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি ইউনিয়নের কালীগঙ্গা নদীর ওপর ১৯৭৩ সালে ৬৬৪ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর চলতি বছরের ২২ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সেতুর চারটি অংশের সংযোগস্থলের এক্সপানশন জয়েন্টের স্টিলের পাতগুলো মেরামত করা হয়। তবে মালামালের অভাবে বড় দুটি সংযোগের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তরা সেতুর দুটি বড় এক্সপানশন জয়েন্ট ক্ষয় হয়ে ভেঙে গেছে। এতে করে বেশ ফাঁকা হয়ে গেছে সেতুর স্টিলের পাতগুলো। যখন বড় বড় যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করে, তখন বেশ শব্দ ও ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। এতে মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারগুলোকে বেশ ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।
পাটুরিয়াগামী সেলফি বাসের চালক আলী হোসেন বলেন, ‘তরা সেতু দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার যাওয়া আসা করতে হয়। সেতুর দুটি জয়েন্টের অবস্থা খুব খারাপ। এর কারণে অনেক সমস্যা হয়। এর আগে একবার চারটি জয়েন্ট ঠিক করা হয়েছে। বড় দুটি তখন মেরামত করলে ভালো হতো। সেতুর বয়স তো কম হয়নি। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে, বলা যায় না।’
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি শেখ আলমগীরের সঙ্গে কথা হলে বলেন, ‘এমনিতেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবস্থা ভালো না। জায়গায় জায়গায় উঁচু-নিচু অবস্থা ও ছোট-বড় খানাখন্দ। আর পাটুরিয়ামুখী সেতুর শেষ প্রান্ত ও মাঝখানের জয়েন্ট দুটি ভেঙে গেছে। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ঘিওর উপজেলার দায়িত্বে আছি। প্রতিদিন আমাকে মোটরসাইকেলে করে কাজের জন্য একাধিকবার এই সেতু দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয়। ব্রিজের ওপর দিয়ে বড় গাড়ি চলাচল করলে পাশে থাকা ছোট গাড়িতে অনেক ঝাঁকি লাগে। এতে ভয়ে আমরা আঁতকে উঠি।’
ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মালামাল নিয়ে প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। গাড়ি যখন লোড থাকে, তখন বেশ ভয় হয়, যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে। খালি গাড়ি নিয়ে চলাচলে সমস্যা কম হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেতু। কারণ এই সেতু ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যানবাহন যাতায়াত করে। একবার কোনো দুর্ঘটনা হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল কাদের জিলানী খবরের কাগজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুতে যানবাহন চলাচল করায় এক্সপানশন জয়েন্টে থাকা স্টিলের পাতগুলো বেশ ফাঁকা হয়ে যায়। এতে করে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করার সময় চালকদের বেশ বিপাকে পড়তে হয়। তরা সেতুটি নির্মাণের পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে দুটি এক্সপানশন জয়েন্ট বাদে সবগুলোর কাজ করা হয়েছিল। বাকি দুটি এক্সপানশন জয়েন্ট ক্ষয় হয়ে গেছে। এর জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ এলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।’