ঝিনাইদহ শহরের ফুটপাতে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। বিক্রেতারা ফুটপাতে ছোট ছোট দোকান সাজিয়ে বিভিন্ন ভর্তা ও পিঠা বিক্রি করছেন। সন্ধ্যার পর এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। প্রতিটি পিঠার দাম ৭-১০ টাকা এবং বিক্রেতারা দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ করছেন। শীতের মৌসুমে এসব পিঠা স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের পায়রা চত্বর, পুরোনো ডিসি কোর্ট, হাটের রাস্তা এলাকাসহ শহরের নানা স্থানে এই পিঠা বিক্রি হচ্ছে। পিঠার সঙ্গে কচুর শাক ভর্তা, শুঁটকি মাছের ভর্তা, ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরিষা ভর্তা দেওয়া হয়। এতে স্বাদের ভিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ে।
চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের শহিদ মিনারের সামনে পিঠা বিক্রি করেন সফুরা খাতুন। তিনি জানান, শীতের পুরো মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ পিস ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। প্রতিটি ভাপা পিঠার দাম ১০ টাকা। সব খরচ বাদে তিনি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ করেন। তিনি আরও জানান, শীতের শুরুতে বিক্রি কম থাকলেও শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির পরিমাণও বাড়ে।
পাগলা কানাই এলাকার পিঠা বিক্রেতা সাব্বির আহমেদ জানান, প্রতিদিন ৩০০ পিস চিতই পিঠা বিক্রি করেন। তার দৈনিক লাভ প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। প্রথম দিকে পিঠার বিক্রি কম হলেও শীত বাড়ার সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে।
একই এলাকার আরেক পিঠা বিক্রেতা আলী আকবর জানান, তিনি প্রতি পিস চিতই পিঠা ৫ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়। তবে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে লাভ কিছুটা কমে গেছে।’
বিক্রি হওয়া এসব পিঠা স্বাদে ভরপুর। কাঞ্চনপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও পাগলা কানাই এলাকার রেজাউল ইসলাম বলেন, এখানে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়া যায়। বিভিন্ন ভর্তার স্বাদ একেক রকম এবং দামও সস্তা। তাদের মতে, সন্ধ্যার পর প্রায়ই এখানে এসে ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খেয়ে তারা আনন্দ পান।
ক্রেতা খসরুল আলম জানান, তিনি বাসায় পিঠা তৈরি করে খাওয়ার সুযোগ পান না। তাই শীত এলেই শহরের ফুটপাতে পিঠা খেতে চলে আসেন। তার মতে, এখানকার চিতই পিঠা ও ভর্তা খুবই সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।
প্রতিবছর শীতের মৌসুমে ঝিনাইদহ শহরের বাড়ি বাড়ি তেমন পিঠা তৈরি হয় না, যা আগে হতো। এখন তাই এসব ফুটপাতে বিক্রি হওয়া মৌসুমি পিঠাগুলো বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের মানুষের জন্য এটি এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিক্রেতারা তাদের দোকান সাজিয়ে উপার্জন করছেন এবং ক্রেতারা এই পিঠার স্বাদ উপভোগ করছেন। শীত মৌসুমজুড়ে ফুটপাতে পিঠার বিক্রি জমজমাট থাকে। এটি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই আনন্দদায়ক ও লাভজনক।