ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা

ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:০৩ এএম
ফুটপাতে পিঠা বিক্রির ধুম
ঝিনাইদহ শহরের ফুটপাতে পিঠার দোকান ঘিরে লোকজন। খবরের কাগজ

ঝিনাইদহ শহরের ফুটপাতে ভাপা ও চিতই পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। বিক্রেতারা ফুটপাতে ছোট ছোট দোকান সাজিয়ে বিভিন্ন ভর্তা ও পিঠা বিক্রি করছেন। সন্ধ্যার পর এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। প্রতিটি পিঠার দাম ৭-১০ টাকা এবং বিক্রেতারা দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ করছেন। শীতের মৌসুমে এসব পিঠা স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের পায়রা চত্বর, পুরোনো ডিসি কোর্ট, হাটের রাস্তা এলাকাসহ শহরের নানা স্থানে এই পিঠা বিক্রি হচ্ছে। পিঠার সঙ্গে কচুর শাক ভর্তা, শুঁটকি মাছের ভর্তা, ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরিষা ভর্তা দেওয়া হয়। এতে স্বাদের ভিন্নতা সৃষ্টি হয় এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ে। 

চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের শহিদ মিনারের সামনে পিঠা বিক্রি করেন সফুরা খাতুন। তিনি জানান, শীতের পুরো মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ পিস ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। প্রতিটি ভাপা পিঠার দাম ১০ টাকা। সব খরচ বাদে তিনি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা লাভ করেন। তিনি আরও জানান, শীতের শুরুতে বিক্রি কম থাকলেও শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির পরিমাণও বাড়ে।

পাগলা কানাই এলাকার পিঠা বিক্রেতা সাব্বির আহমেদ জানান, প্রতিদিন ৩০০ পিস চিতই পিঠা বিক্রি করেন। তার দৈনিক লাভ প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকা। প্রথম দিকে পিঠার বিক্রি কম হলেও শীত বাড়ার সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে। 

একই এলাকার আরেক পিঠা বিক্রেতা আলী আকবর জানান, তিনি প্রতি পিস চিতই পিঠা ৫ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়। তবে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে লাভ কিছুটা কমে গেছে।’

বিক্রি হওয়া এসব পিঠা স্বাদে ভরপুর। কাঞ্চনপুরের জাহাঙ্গীর আলম ও পাগলা কানাই এলাকার রেজাউল ইসলাম বলেন, এখানে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়া যায়। বিভিন্ন ভর্তার স্বাদ একেক রকম এবং দামও সস্তা। তাদের মতে, সন্ধ্যার পর প্রায়ই এখানে এসে ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খেয়ে তারা আনন্দ পান। 

ক্রেতা খসরুল আলম জানান, তিনি বাসায় পিঠা তৈরি করে খাওয়ার সুযোগ পান না। তাই শীত এলেই শহরের ফুটপাতে পিঠা খেতে চলে আসেন। তার মতে, এখানকার চিতই পিঠা ও ভর্তা খুবই সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। 

প্রতিবছর শীতের মৌসুমে ঝিনাইদহ শহরের বাড়ি বাড়ি তেমন পিঠা তৈরি হয় না, যা আগে হতো। এখন তাই এসব ফুটপাতে বিক্রি হওয়া মৌসুমি পিঠাগুলো বড় আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের মানুষের জন্য এটি এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিক্রেতারা তাদের দোকান সাজিয়ে উপার্জন করছেন এবং ক্রেতারা এই পিঠার স্বাদ উপভোগ করছেন। শীত মৌসুমজুড়ে ফুটপাতে পিঠার বিক্রি জমজমাট থাকে। এটি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই আনন্দদায়ক ও লাভজনক।

ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাজিল সমর্থকদের পর পাবনার ঈশ্বরদীতে এবার আর্জেন্টিনা সমর্থকরা বিশাল মোটরসাইকেল আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। 

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে এ আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের খায়রুজ্জামান বাবু কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়।

এর আগে গত ১৯ জুন ব্রাজিল সমর্থকরাও মোটরসাইকেল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। তারা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে গোটা ঈশ্বরদী শহর প্রদক্ষিণ করে।

২২ জুন রাত ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় খেলায় আর্জেন্টিনা ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে। খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার ডালাস শহরের ডালাস স্টেডিয়ামে।

এর আগে গত ১৭ জুন আর্জেন্টিনা প্রথম খেলায় আফ্রিকা মহাদেশের দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে। এ খেলায় লিওনেল মেসি একাই তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আর্জেন্টিনা সমর্থকরা দুপুরের পর থেকে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি গায়ে, জার্সিকে পতাকা বানিয়ে তা হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে, কেউবা মোটরসাইকেলে করে খায়রুজ্জামান বাস টার্মিনালে এসে জড়ো হতে থাকে। অনেককে রিকশা ও অটোরিকশায় আসতে দেখা যায়।

বিকেল ৪টার আগেই বাস টার্মিনাল এলাকা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

একত্রিত হয়ে শত শত মোটরসাইকেলে সমর্থকরা বিকেল ৪টায় বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন রেলগেট ট্রাফিক মোড় থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু করে। সেখান থেকে স্টেশন সড়ক, বাজার, চাঁদ আলী মোড় ঘুরে কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে যায়। সেখান থেকে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক দিয়ে রেলগেট অতিক্রম করে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে শোভাযাত্রাটি সোজা চলে যায় সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখান থেকে একইভাবে তারা পুনরায় খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে ফিরে আসে।

দুই-তিনজন আর্জেন্টিনা সমর্থক জানান, অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে তাদের আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি সমর্থক আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে অত্যন্ত খুশি। 

তারা বলেন, ‘প্রথম খেলায় ভালো খেলে মেসির একাই করা তিনটি দর্শনীয় গোলে আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। আমরা আশা করছি আজও মেসি এবং তার দল ভালো খেলে গ্রুপের শীর্ষে থাকবে।’

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পাড়া-মহল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকরা নানা আয়োজনে সোমবার রাত ১১টায় বড় পর্দায় খেলা উপভোগের জন্য প্রজেক্টর স্থাপন ও খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া জার্সি কেনা, পতাকা টানানো এবং নিজের ছবি-সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন/রিফাত/

ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান
জব্দ করা মদ তৈরির সরঞ্জাম। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাংলা মদ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বাংলা মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। 

সোমবার (২২ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী ঝাঁউকুটি এলাকায় হবিবর রহমানের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদে জানতে পেরে আমরা এখানে অভিযান চালাই। অভিযানে মদ তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ও প্রস্তুত বাংলা মদ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানার সঙ্গে জড়িত গনাই চন্দ্র (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তবে কারখানার মূল হোতা আব্দুল কাদের পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। বাড়ির মালিক হবিবর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। ফুলবাড়ীতে এই প্রথম বাংলা মদ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, আমি নিজে থেকে অভিযান চালিয়ে বাংলা মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে যাকে মূল হিসেবে জানি সে পালিয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিককেও আনা হয়েছে। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। 

গোলাম মাওলা/নাঈম

রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু
অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুর করিম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে মো. রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে নগরের চন্দ্রিমা থানার মেহেরচণ্ডি কলাইতলা পশ্চিমপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুর করিম পলাতক রয়েছেন।

নিহত রেজাউল করিম একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। অভিযুক্ত রাকিবুর করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। পড়াশোনা শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাকিবুর তার মায়ের পক্ষ নেন। এ সময় উত্তেজিত হয়ে তিনি একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুর মোটরসাইকেলে করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা আহত রেজাউলকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। তবে ছেলের লাঠির আঘাতেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুর করিম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রিফাত/

নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আব্দুল মাবুদ, ইনসেটে চীনা নাগরিক। ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে হেনস্তা, ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল মাবুদ (৪২) নামের এক যুবককে আটক করেছে টুরিস্ট পুলিশ।

সোমবার ( ২২ জুন) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক আব্দুল মাবুদ জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

টুরিস্ট পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মেসবাহুল হক জানান, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক চীনা নাগরিক ঘুরতে আসেন। পাহাড়পুরে অবস্থানকালে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদ ওই বিদেশি পর্যটককে নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি টুরিস্ট পুলিশ পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনিটের নজরে আসলে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বদলগাছি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারুন/নাঈম

কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮টি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না কেউ। এসব কলেজের চারটি কলেজ থেকে রেজিষ্ট্রেশনই করে নি কেউ। এর মধ্যে বাকি ৪ কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করেও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ফাইনালের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই ৮ কলেজের মধ্যে চারটি কলেজ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলায় ও একটি ফেনী জেলায়। 

এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এ বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি। গত ১৪ই জুন সরকারি সময়ে রেজিষ্ট্রেশনের সময় শেষ হয়। 

সে সময় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) এর দায়িত্বে থাকা মো. সালাহউদ্দিন জানান, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় মোট ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। আমরা আটটি প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছি যাদের কলেজের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এছাড়া গতবছর শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ পাশের হারে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকেও কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয় তারা ২০২৭ সালে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। 

উপ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন জানান, এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি। মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া যেমনি নারী শিক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার নোবেল কলেজ, কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ। 

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু আছে। এ বছরই প্রথম এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বিগত কিছু বছর যাবতই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর যে ১০ জন এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিল তারাও পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও তো তোড়জোড় করা যায়নি। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাসের মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে সেগুলোকে কলেজে উত্তীর্ণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা না করা গেলে কলেজ ছাতা চালাতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা ও আর্থিক সংকট এবং সুনামের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। এতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসে। তার চেয়ে বরং যারাই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা যদি আলাদা করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটি দায়িত্বশীল ভাবে পরিচালনা করেন তাহলে এই দুর্ভাগা পরিণতিতে কাউকে পড়তে হবে না। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কোন কোন কলেজগুলো থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন সেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি আছে কি না আমরা পর্যালোচনা করবো। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ বলেন, কোন কলেজগুলোতে একেবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নেই, আবার কোন কোন কলেজে দিন দিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে- এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা আমরা ভেবে দেখছি। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানেরই বাৎসরিক ফলাফল খারাপ হবে কিংবা তাদের শিক্ষার্থী থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে কোনো নীতিমালা তৈরি করে সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিব। এতে করে মানহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীরাও কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার হবে না।

রিফাত/