নড়াইলে সহকর্মীকে হত্যার দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নড়াইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুইজন হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার চামটা গ্রামের ফারুক হোসেন খান ও পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার শিয়ালকাঠির রফিকুল ইসলাম।
৭ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকার দারুস সালাম থানা এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, ‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সাব্বিরকে হত্যা করে জাহাজ থেকে নদীতে ফেলে দেন আসামিরা। এই অপরাধের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন ও একজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে মামলায় সম্পৃক্ততা না থাকায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মেহেরিন সাদ নামে একটি জাহাজে সুকানির কাজ করতেন পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার শিয়ালকাঠি এলাকার সাব্বির।
২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই জাহজটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার বড়দিয়া ঘাটে অবস্থানের সময় স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা বলেন সাব্বির।
সেদিন রাত ৮ টার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
তার সহকর্মীদের ফোন দিলেও যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়নি পরিবার।
এরপর ৩ অক্টোবর নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার ডুমুরিয়া এলাকায় মধুমতী নদী থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় সাব্বিরের পরিবার।
পুলিশের কাছে থাকা মরদেহের ছবি দেখে সাব্বিরকে শনাক্ত করেন তারা।
পরে নিহতের শ্যালক মহিদুল বাদি হয়ে জাহাজে কর্মরত ফারুক, রফিকুল, সাজ্জাদ ও শহিদুলের নাম উল্লেখ করে নড়াগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন৷
দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন।
শরিফুল ইসলাম/নাইমুর/