ঝালকাঠিতে ফসলি ও আবাদি জমিতে ইটভাটা বানিয়ে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে বনজ সম্পদ। এর ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা শহরের অদূরে কৃষ্ণকাঠি গ্রামের আগরবাড়ি এলাকায় আব্দুল করিম ব্রিকস ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বন-জঙ্গলের কাঠ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই গত ২০ বছর ধরে চলছে ভাটাটির কার্যক্রম। এই অবৈধ ইটভাটায় প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন ইট মৌসুম থাকায় এই ভাটায় কাঠের চাহিদা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাছ কেটে তা স্তূপ করে রাখা হয় সেখানে। সেগুলো পুড়িয়ে বানানো হচ্ছে ইট।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ঘনবসিতপূর্ণ এই গ্রামেই আইন ভেঙে কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। উর্বর কৃষিজমির মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন গাছের কাঠ। এতে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও বনায়ন হুমকির মুখে পড়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা কবির বলেন, ‘আব্দুল করিম ব্রিকস-ভাটায় সব সময়ই কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।’ আলামিন নামে এক কৃষক বলেন, ‘ইটভাটার কারণে ফসলের মাটি নষ্ট হচ্ছে। ভাটার ধুলোর কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।’
আশাদুল নামের অপর এক কৃষক বলেন, ‘একসময় অনেক ফসল হতো। গ্রামের মানুষ যে আবাদ করে খাবে, সেই পরিস্থিতি নেই। আমরা দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার বলেন, ‘ভাটা ও পাঁজার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ইটভাটার জিগজাগ চুঙা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও এই ভাটায় তা নেই।’
ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন ২০১৩-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আব্দুল করিম ব্রিকস ভাটার পরিচালক সাইদ জোমাদ্দার বলেন, ‘কাঠ দিয়ে ইট পোড়াব না। কয়লা দিয়েই পোড়াব। কিন্তু কয়লার সংকট থাকায় অল্প কিছু কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো হচ্ছে।’ ছাড়পত্রের বিষয়ে তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, ‘যেসব ভাটায় জিগজাগ চুঙা নেই, সেসব ভাটা মালিককে নোটিশ দিয়ে ভাটা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই ভাটায় কাঠ পোড়ানোর বৈধতা নেই।
কয়লা ছাড়া কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব।’ জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান জানান, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গার কয়েকটি ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবদুল করিম ব্রিকস ভাটার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।