বরিশালে শিক্ষার্থী ও বাসশ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বুধবার ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, মালিক ও জেলা প্রশাসনের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে রাত ৮টা থেকে বরিশালের ১৫ রুটের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রূপাতলী বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বাসশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর আমরা আমাদের (শ্রমিকদের) ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাসমালিক ও শ্রমিকপক্ষ থেকে ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নেওয়া হবে। আর বন্ধের দিনে কোনো হাফ ভাড়া থাকবে না। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও বাসশ্রমিকদের নিরাপত্তার ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে সচেষ্ট থাকবে বলে আশ্বাস দেন। আলোচনায় সব বিষয়ে বাসমালিক ও শিক্ষার্থীরা একমত হয়েছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বাস ভাড়া নিয়ে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন তাওহিদ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসের শ্রমিকরা। এ নিয়ে বারিশালের রূপাতলী বাস টার্মিনালে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাসশ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় সন্ধ্যার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকার সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর জেরে জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে ধর্মঘট ডাকেন বাসশ্রমিকরা। এরপর সকাল ৬টা থেকে তারা ১৫ রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিএম কলেজের ছাত্রী তাওহিদ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল আসছিলেন। পথে অর্ধেক ভাড়া নিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে বাসের সহকারীর কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় ওই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন বাসের হেলপার ও চালক। একপর্যায়ের ছাত্রীকে রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর বিকেলে বিএম কলেজের ১০ শিক্ষার্থী বরিশাল রূপাতলী বাস মালিক সমিতিতে যান। সেখানে তাদের ওপরে বাসশ্রমিকরা হামলা করেন। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর সন্ধ্যার দিকে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা রূপাতলী বাসস্টেশনে গিয়ে দুটি বাস ভাঙচুর করেন। এ সময় বাসশ্রমিকদের সঙ্গে তাদের আবার সংঘর্ষ বাধে। খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাসহ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। তারা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘আমরা ৮ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ করেছিলাম। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সভা একটি সভা হয়। এতে বাসমালিক ও শ্রমিকরা আট দাবি মেনে নেন। এরপর আমরা রাতে অবরোধ প্রত্যাহার করি। তবে দাবি মেনে নেওয়ার পর মালিক-শ্রমিকরা আজ সকালে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধর্মঘট শুরু করেন।’
এদিকে রূপাতলী বাসশ্রমিকরা জানান, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে ঝালকাঠির বাসের শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা তাদের কিছু না বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রূপাতলী বাসস্টেশনে গিয়ে দুটি বাস ও শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করেন। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করেন। শ্রমিকদের মারধর ও বাস ভাঙচুর করেন। এ কারণে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে বরিশালে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে ধর্মঘট করা হচ্ছে।
বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ঝালকাঠি মালিক সমিতির কাছে বিচার চাইতে পারত। কিন্তু রূপাতলীতে বিক্ষোভ করে বাস ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।’