বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর দুর্গম মুরুংঝিরি থেকে অপহৃত ২৬ রাবার শ্রমিক দুই দিনেও উদ্ধার হয়নি। শনিবার গভীর রাতে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গত রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে অপহৃতদের মুক্তিপণ বাবদ জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছে সন্ত্রাসীরা। বাগানমালিক ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে তারা। তবে পুলিশ বলছে, অপহৃতদের উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, অপহৃতরা ফোরকান, শাহজাহান, নুরু মোহাম্মদ, আহসান উল্লাহ, হুমায়ুন ও সোনামিয়ার রাবার বাগানে টেপারের কাজ করতেন। তারা কক্সবাজার জেলার রামু ও ঈদগাহ এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পাহাড়ি একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই-আড়াই মাস ধরে উপজেলার সরই, গজালিয়া, লামা সদর ইউনিয়ন ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপকর্ম করে আসছে। শনিবার রাতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম মুরুংঝিরি এলাকার সন্ত্রাসীরা কয়েকটি রাবার বাগানে হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে সেখানকার কর্মরত ২৬ শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর মুরুংঝিরির আশপাশের গোয়ালমারমা, মংবিচর ও তীরেরডেবা এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মুরুংঝিরি এলাকার রাবার বাগানের মালিক মো. শাহাজাহান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ছয়টি বাগান থেকে ২৬ জনকে অপহরণ করেছে। এর মধ্যে আমার বাগান থেকে ১২ জনকে নিয়ে গেছে। তারা এক শ্রমিকের মোবাইল ফোন থেকে মুক্তিপণের জন্য ফোন করে। প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে।’
লামা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘অপহরণের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। অপহরণকারীরা পাহাড়ি সন্ত্রাসী হতে পারে। ’
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে দুই দফায় ১০ জনের বেশি শ্রমিককে অপহরণ করা হয়েছিল লামা থেকে। পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে তারা মুক্তি পান।