জয়পুরহাটের সদর উপজেলার বেল আমলা এলাকায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বারো শিবালয় মন্দির। এ মন্দির চত্বরে দুই দিনব্যাপী শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শিব চতুর্দশীর পূজা-অর্চনা ও মেলা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন এই মন্দিরে। এরপর মন্দির-সংলগ্ন ছোট যমুনা নদীতে পুণ্যস্নান করে ভক্ত ও পূজারিরা শিব ঠাকুরের মাথায় জল এবং দুধ ঢেলে পূজা-অর্চনা করেন।
অন্যদিকে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি মন্দিরের চারপাশে বসেছে প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। মেলায় মিঠাই-মণ্ডা, খেলনা, পূজাসামগ্রী, ফার্নিচারসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আর ঐতিহ্যবাহী নাগরদোলা, চরকি দোলাসহ শিশু-কিশোরদের নানা বিনোদনব্যবস্থা মেলাকে যেন সাজিয়েছে ভিন্ন সাজে।
জেলা সদরের বামনপুর চারমাথার স্বর্ণা রায় বলেন, ‘মেলায় এসে শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢেলে পূজা করেছি। দেশের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করছি। সবাই যেন ভালো থাকে। সবার যেন মঙ্গল হয়।’
গাইবান্ধা থেকে আসা চুমকি সাহা নামে এক ভক্ত বলেন, ‘শিব চতুর্দশী উপলক্ষে সকালে ব্রত রেখে পূজা করার জন্য বারো শিবালয় মন্দিরে এসেছি। শিবের তিথি উপলক্ষে শিবের মাথায় দুধ, জল, ঘি ও মধু দিয়ে পূজা করেছি। এ সময় মনোবাসনার জন্য প্রার্থনা করেছি, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে। সবার সমস্যা যেন সমাধান হয়।’
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় শিবমন্দির জয়পুরহাটের বারো শিবালয় মন্দির। এখানে এসে পরিবারসহ গঙ্গাস্নান শেষে শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢেলে মনস্কামনার জন্য প্রার্থনা করেছি। এখানে যে যা কামনা করেন, সেটাই ফলপ্রসূ হয়। এ জন্য হাজার হাজার মানুষ এখানে আসেন।’
নাটোর থেকে মেলায় আসা ৬৫ বছর বয়সী ভক্ত বিদ্যাবালা মহন্ত বলেন, ‘আমার জীবনে খুব আশা ছিল, এই বারো শিবালয় মন্দিরে এসে শিবের মাথায় জল ঢালব। এবার আমার নাতি সেই আশা পূরণ করার জন্য আমাকে নিয়ে এসেছে। আমি শিবের মাথায় জল ঢেলে নিজের পরিবারসহ দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’
দিনাজপুর থেকে আসা জয়ন্ত ঘোষ বলেন, ‘প্রতি বছর দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রী, ভক্ত আর পূজারিরা আসেন ঐতিহ্যবাহী এই বারো শিবালয় মন্দিরে। আমিও দুই বছর ধরে এই মেলায় আসছি। শিবের মাথায় জল ঢেলে পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের মঙ্গল কামনা করেছি। মেলা ঘুরে যাওয়ার সময় আমার স্ত্রীর জন্য শঙ্খের শাখা, বাচ্চার জন্য খেলনা ও কিছু মিষ্টি নিয়ে যাব।’
মন্দির কমিটির আহ্বায়ক বিশ্বনাথ আগরওয়ালা বলেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র বারোটি শিবলিঙ্গ শুধু জয়পুরহাটের এই মন্দিরেই আছে। শিব চতুর্দশীতে প্রতিবছর এখানে দেশের বিভিন্ন জেলাসহ ভারত থেকেও ভক্তরা পূজা-অর্জনা করতে আসেন।
আজ (বুধবার) মহাকুম্ভতে স্নান হচ্ছে। এই দুই দিন মিলন-মেলায় পরিণত হয়।’ মেলায় দায়িত্বরত পুলিশের পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম জানান, বারো শিবালয় মেলায় হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। মেলায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ টহল দিচ্ছে।’