ঈদ সামনে রেখে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে চলছে কেনাকাটার ধুম। নগরীতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষের সমাগম এবং সড়কগুলোতে যানবাহন বাড়ার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) নগরীর নথুল্লাবাদ, বিএম কলেজ সড়কের নতুন বাজার, বগুড়া রোড, পুলিশ লাইনস, বাংলাবাজার, সদর রোডের বিবির পুকুরপাড়, অভিরুচি সিনেমা হল, লাইন রোডের মুখ, জেলখানা মোড়, নাজিরের পুল, বাজার রোড, চকের পুল, হেমায়েত উদ্দিন রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি যানজট দেখা গেছে। এসব এলাকায় নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল নগরী এমনিতেই ছোট। শহরের বেশির ভাগ সড়কই খুব সরু। এ ছাড়া নগরীতে কয়েক বছর ধরে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অবৈধ অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। ঈদে কোনাকাটা করতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারও মানুষ নগরীতে আসেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে আসা বিভিন্ন যানবাহন নগরীর যেখানে-সেখানে পার্কিং করা হচ্ছে। সদর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই সড়কের যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি সড়কেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর বাজার রোড, চকের পুল, হেমায়েত উদ্দিন রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ ও কাকলীর মোড় এলাকায় সব সময়ই যানজট লেগে থাকে।
পাশাপাশি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। যদিও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থানে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সহযোগিতায় রয়েছে সিটি করপোরেশন।
শুক্রবার দুপুরে চকবাজার এলাকায় আটকে পড়া রিকশাযাত্রী লাভলী বেগম বলেন, ‘হাতে অল্প সময় নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু বিভিন্ন সড়কে যানজটের যে অবস্থা, তাতে রাস্তায়ই সময় শেষ হয়ে গেছে।’
নগরীর বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ যানবাহন দিন দিন বেড়েই চলেছে। যানজটের কারণে শান্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে না। এদিকে রিকশাসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা অদক্ষ হওয়ায় সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘নগরীতে পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় সড়কের পাশে যেখানে সেখানে গাড়ি ও মোটরসাইকেল রাখা হচ্ছে। এতে সরু সড়ক আরও সরু হয়ে পড়ছে। আর নিয়মিত যানজট লাগছে।’
নগরীর কাকলী মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল শাহিন বলেন, ‘সদর রোডের সব মার্কেট ও বিল্ডিংই যানজটের জন্য দায়ী। কারণ কারোরই গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।’
বরিশাল সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘নগরীর কোথাও কোনো পরিকল্পনা নেই। যাচ্ছেতাই অবস্থা। ব্যস্ততম সড়ক আটকে মিছিল-মিটিং চলে, সড়কের পাশে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। সব মিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল শাখার সাবেক সভাপতি শাহ সাজেদা বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নগরীতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অটোরিকশা ও ইজিবাইক। ঈদের কেনাকাটায় ভিড় বাড়ছে কয়েক গুণ। চকবাজার, নতুন বাজার ও পোর্ট রোডগুলো এখন ওয়ানওয়ে সড়ক করার জরুরি হয়ে পড়েছে।’
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শরফুদ্দিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বিসিসির কাছে লিখিত কিছু প্রস্তাবনা আগেই দিয়েছি। নগরীতে কতগুলো যানবাহন চলবে, ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলবে, এসব বিষয় ঠিক করতে হবে সিটি করপোরেশন প্রশাসনকে। বিসিসি কিছু না করলে আমরা নিরুপায়। আর চকবাজার ও পোর্ট রোড এলাকা দু-এক দিনের মধ্যেই ওয়ানওয়ে করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব এলাকায় যানজট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি।’