ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’ রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৬ পিএম
আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম
সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে মানববন্ধন
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখা আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি। ছবি: খবরের কাগজ

‘সিলেট বিভাগজুড়ে চলছে পাহাড়-টিলা কেটে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের হিড়িক। কখনো রাতের আঁধারে, কখনো দিনে প্রকাশ্যে পাহাড়-টিলার চিহ্ন নিশ্চিহ্ন করছে সংঘবদ্ধ ভূমিখেকোরা। কোথাও হাউজিংয়ের নামে, কোথাও রিসোর্ট নির্মাণে প্রভাবশালীরা জড়িয়ে পড়ছেন এ কাজে। যা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ স্থানীয় প্রশাসন।’

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখা আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এভাবে পাহাড়-টিলা কাটা চলতে থাকলে সিলেট বিভাগের ভূ-প্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে বদলে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে প্রাকৃতিক ছড়ার প্রবাহ। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেবে পানির ভয়াবহ সংকট।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে ধরা সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে মূল বক্তব্য দেন সিলেটের পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও ধরার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম।

কর্মসূচিতে ধরার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সিলেট বিভাগের মধ্যে বর্তমানে পাহাড়-টিলা ধ্বংসে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিলেট জেলা। জৈন্তাপুরের পঞ্চাশের পাহাড়মালা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটে পাহাড়-টিলা কর্তন হচ্ছে পাথর উত্তোলনে। যা এখন খনিজ সম্পদ আহরণ নামে অভিহিত হচ্ছে। হাজার কোটি কোটি টাকার পাথর আহরণের কারণে এই পাহাড়-টিলার বিনাশ থামছে না।’

সংগঠনটি জানায়, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় স্রেফ জলাভূমি ভরাট ও মাটি বিক্রির জন্য টিলা কাটে একদল লোক। এরা টিলা বিনাশের জন্য টিলার মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।’

সিলেট সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনভুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্নস্থানে টিলা কাটা চলছে। সিলেট মহানগরীর আশপাশ এলাকার টিলাখেকোরা অতীতেও টিলা ধ্বংসে বিগত সরকারের সময়ের রাজনৈতিক পাণ্ডাদের আশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। সরকার পরিবর্তনেও এদের প্রভাব ও স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি। এই সিন্ডিকেট টিলা নিশ্চিহ্ন করার কাজ সহজ করে দেয়। এদের পরিবেশ বিধ্বংসী সূক্ষ্ম বুদ্ধির কাছে পরিবেশ অধিদপ্তর নামের সরকারী প্রতিষ্ঠান আসলে ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার।

সংগঠনির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারত। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা সাক্ষীগোপালের মতো। জেলা প্রশাসনকে সিলেটের পাহাড়-টিলা ধ্বংসের দায় নিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ধরা সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয় পাহাড়-টিলা কাটা রোধে শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। উপজেলা পর্যায়ে অনেক সৎ ও সাহসী তরুণ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদেরকে পাহাড়-টিলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ জোরালো করতে সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিতে হবে।’

সাংস্কৃতিক সংগঠক শামসুল বাছিত শেরো বলেন, ‘সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার একাধিক উপজেলায় পাহাড়-টিলা বিনাশের তথ্য সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। আবার বিভিন্নস্থানে অভিযানও হচ্ছে। কিন্তু  এসব অভিযান শেষে যে দায়সারা মামলা হয়, তাতে পাহাড়-টিলা নিশ্চিহ্ন করার ধ্বংসলীলা থামে না।’

সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার কমরেড উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিলেটের পাহাড়-টিলা কাটা রোধে জেলার পাহাড়–টিলা এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালকসহ বিবাদীদের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ছয় মাস পরপর উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছিল। হাকিম নড়লেও হুকুম নড়ে না। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। যা আদালতকে অবজ্ঞা করা বলেই প্রতীয়মান হয়।

পরিবেশকর্মী রেজাউল কিবরিয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পাত্র সমাজ কল্যাণ পরিষদের (পাসকপ) প্রধান নির্বাহী আদিবাসী নেতা গৌরাঙ্গ পাত্র, সাবেক ছাত্রনেতা ও ধরার অন্যতম সংগঠক মাহমুদুর রহমান চৌধুরী (ওয়েস), ভূমিসন্তান বাংলাদেশের আশরাফুল কবির, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাদিকুর রহমান সাকী, আইনজীবী অরূপ শ্যাম বাপ্পী ও রাতারগুল গ্রামের অধিকারকর্মী মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।

সুমন/

ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপন যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে কৌশলে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদারেরা। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি ই-জিপি আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার সম্পন্ন করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তালতলীতে এডিপির চতুর্থ ধাপে ৩৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা পূর্ববর্তী ঘাটতির জন্য সংরক্ষণ রেখে বাকি অর্থ থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্প পিআইসি পদ্ধতিতে এবং ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ১৭টি প্রকল্প আরএফকিউ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ সংক্রান্ত তালিকায় ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, আরএফকিউ পদ্ধতির নিয়ম উপেক্ষা করে ১৭টি প্রকল্পকে চারটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে পরিচালনা করা হয়, যাতে সাধারণ ঠিকাদারেরা কোনো তথ্যই জানতে না পারেন।

স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নিবন্ধিত ঠিকাদার থাকলেও এ টেন্ডার সম্পর্কে তাদের অধিকাংশই অজ্ঞাত ছিলেন। 

তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন রেখে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচটি নির্দিষ্ট লাইসেন্স ব্যবহার করে নামমাত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স প্রিন্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নাইম এন্টারপ্রাইজ দুটি করে প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে কাজের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউএনও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দক্ষ নন, তাই তার আইডি ব্যবহার করে তিনি নিজেই কাজ সম্পন্ন করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচটি লাইসেন্স থেকে দরপত্র নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কাজ দেওয়া হয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর কমিটির সভায় প্রকল্প অনুমোদন করা হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মহিউদ্দিন অপু/অন্তরা/

কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়ির ধানের গোলা থেকে বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কচুকাটা থানা পুলিশ। জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী ও খাদ্যদ্রব্য। 

পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের নেত্রিত্বে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম ঝাউকুটির চোরাকারবারি জহুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় জহুরুলের বাড়ির ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস,পাপড় ও প্যান্ট পিস পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করে থানায় আনা হয়।

অভিযানের সময় চোরাকারবারি জহুরুল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান , নারায়ণপুর ইউনিয়ন একটি দূর্গম এলাকা। পুলিশ সেখানে খুব সহজে যেতে পারে না। নদী আর চরবেষ্টিত সীমান্ত সংলগ্ন এই ইউনিয়ন চোরাকারবারিদের ট্রানজিট। এখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সিরাজ/অন্তরা

পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার আমিনপুর থানার  দারিয়াপুর এলাকায় নিখোঁজের দুই দিন পর মো. রহিম খান (৬৫) নামের এক লেবু ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দরিয়াপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রহিম খান বেড়া উপজেলার টাংবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

আমিনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন জানান, সোমবার সকালে দরিয়াপুর গ্রামের স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের বাগানে আম পাড়তে যান কিছু লোক। সেখানে তারা গাছে রহিম খানের মরদেহ ঝুলতে দেখে তাৎক্ষণিক থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসআই আওলাদ হোসেন আরও জানান, শনিবার (২০ জুন) সকালে রহিম খান বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দুই থেকে তিন দিন আগে থেকেই সেখানে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/

মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় একটি বন্য প্রাণীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে গ্রামের একটি পাকা সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে প্রাণীটিকে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রাণীটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী যুবক ইসরাফিল হোসেন জানান, শনিবার রাতে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশের একটি গাছ থেকে হঠাৎ একটি প্রাণী তার সামনে লাফিয়ে পড়ে। আকস্মিক ঘটনায় তিনি কিছুটা ভয় পেলেও মুঠোফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে প্রায় সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন।

ইসরাফিলের দাবি, প্রাণীটি দেখতে অনেকটা চিতা বাঘের মতো মনে হয়েছিল। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখার পর অনেক গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রাণীটিকে খুঁজতে বের হন। তবে রাতের অন্ধকারে সেটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গতকাল রাতেও স্থানীয়রা প্রাণীটির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান।

এ ঘটনায় মাঝিপাড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আসমা খাতুন বলেন, বর্ষা মৌসুমে চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই সতর্ক থাকতে হয়। এর মধ্যে বন্য প্রাণীর উপস্থিতির খবরে শিশুদের মধ্যে ভীতি দেখা দিয়েছে।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি কোনো চিতা বাঘ নয়। মাগুরা জেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা তপেনন্দ্রনাথ ঠাকুর জানান, এটি একটি মেছো বিড়াল, যাকে অনেকে মেছো বাঘ নামে চেনেন। প্রাণীটি মূলত মাছ ও ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সাধারণত মানুষের কোনো ক্ষতি করে না।

তিনি বলেন, 'বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন এ প্রাণী বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত। তাই প্রাণীটিকে আঘাত না করে বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণীটির অবস্থান শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কাসেমুর রহমান/আজহার/

সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৭ এএম
সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬
ছবি: খবরের কাগজ

সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মায়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা প্রায় ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছয় জনকে আটক করা হয়।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২০ জুন শনিবার রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের সদস্যরা পশ্চিম সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে সন্দেহভাজন একটি বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি নির্দেশনা অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্টগার্ড ধাওয়া করে বোটটিকে আটক করে।

পরে বোটে তল্লাশি করে মায়ানমার থেকে চোরাচালান করে আনা প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। 

কোস্টগার্ড জানায়, জব্দ করা কারেন্ট জাল, বোট এবং আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শাহীন/খাদিজা রুমি/