নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলপড়ুয়া কিশোরী মেয়েদের টার্গেট করে ধর্ষণের পর ছবি ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নজরুল উপজেলার বৈদ্যেরবাজার দীঘিচানপুর এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। গতকাল বুধবারও (৩০ এপ্রিল) ধর্ষণের শিকার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মেডিকেল পরীক্ষায় পাঠিয়েছে সোনারগাঁ থানার পুলিশ। এর আগে ভুক্তভোগীর মা নজরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
ধর্ষণের শিকার একাধিক ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুলের এ অপকর্মের কথা তার পরিবারের সবার জানা। এই কাজে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পায় ছোট বোন শামীমা, মামাতো ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা নোবেল, সোহেল ও ভাগিনা জয়ের কাছ থেকে।
নজরুলের বোন শামীমা বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মেয়েদের নেশা আছে। যা হয়েছে তা আমার ভাইদের (স্থানীয় বিএনপি নেতা নোবেল ও সোহেল) নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সে আর এই কাজ করবে না।’
ধারাবাহিক ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল সম্পর্কে মামলার বাদী বলেন, ‘ধর্ষণ করার পর আবার ধর্ষণে রাজি করতে দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল নজরুল ইসলাম। আমার মেয়েকে হত্যার ভয় দেখালে সে বিষয়টি গোপন রাখে। নজরুল নিজে এলাকাবাসীর কাছে আমার মেয়েসহ অন্য মেয়েদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে আমাদের পরিবারের মানসম্মানহানির চেষ্টা করে। পরে মেয়েকে চাপ দিলে ধর্ষণের ঘটনা আমরা জানতে পারি।’
আরেকজন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ করলে নজরুলের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করি। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা নোবেল ও সোহেল বিচার-সালিশ করে সমাধান করেন। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নজরুল নগ্ন ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে আমার মেয়ের সংসার ভাঙার পাঁয়তারা করছে।’
ভুক্তভোগী কিশোরী বলে, ‘আমাকে আমার প্রতিবেশী খালার মাধ্যমে নজরুল ইসলাম তার বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ি ফাঁকা থাকায় আমি বের হয়ে আসতে চাইলে আমার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। তারপর আমার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনা কাউকে বললে আমার মাসহ আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাই ঘটনাটি আমি ভয়ে কাউকে জানাইনি। পরবর্তীতে নজরুল আমার স্কুলে গিয়ে ওই ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তার সঙ্গে যেতে বলে। আমি রাজি না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখালে আমি যেতে বাধ্য হই।’
ভুক্তভোগী আরও বলে, ‘যে প্রতিবেশী খালা আমাকে ডেকে নেয় নজরুল তাকেও ধর্ষণ করে। এই এলাকায় আরও ছয়জন মেয়েকে ধর্ষণ করেছে সে।’
বিএনপি নেতা নোবেল বলেন, ‘নজরুল আমার দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই। সে এমন জঘন্য কাজের সঙ্গে আমাদের নাম রটাচ্ছে। আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আইন অনুযায়ী তার বিচারের দাবি জানাই।’
ধর্ষণের বিচার স্থানীয় বিএনপি নেতারা করতে পারেন কি না, প্রশ্নের উত্তরে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনোভাবেই ধর্ষণের বিচার স্থানীয় সালিশে করার সুযোগ নেই। আমরা গত ১২ এপ্রিল অভিযোগ পাওয়ার পর নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা ডিভাইসটি উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছি। এই ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামি নজরুলকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’