ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া

ঝিনাইদহে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
আপডেট: ০৬ মে ২০২৫, ১০:৫৩ পিএম
ঝিনাইদহে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে মিরাজুল (২৫) ও অলিয়ার রহমান (৫০) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ মে) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী ও মহারাজ ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামে এ দুটি ঘটনা ঘটে।

মিরাজুল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী গ্রামের শাহাজ্জেল হোসেনের ছেলে এবং অলিয়ার রহমান মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে কৃষক মিরাজুল মাঠে ধান বাঁধতে যান। পরে সকাল ১১টার দিকে আকস্মিক বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় অন্য কৃষকরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও মিরাজুল বজ্রপাতের কবলে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে আহতবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহত অলিয়ার রহমানের স্বজনরা খবরের কাগজকে জানান, মঙ্গলবার সকালে অলিয়ার মাঠে ধান গোছানোর কাজে বাড়ি থেকে বের হন। পরে বেলা ১১টার দিকে তুমুল বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় তিনি বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক খালিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, আহত দুই কৃষক হাসপাতালে পৌছানোর আগেই মারা যান।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মিরাজুল ও অলিয়ার নামের দুই কৃষক বজ্যপাতের শিকার হয়ে মারা গেছেন। মরদেহ দুটি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

মাহফুজ/মেহেদী/

চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৬ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী
হাসপাতালের বারান্দায় আনোয়ারা থানা-পুলিশের একটি দল মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের অমতে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন কিশোরী খাদিজা আক্তার কাশফি (১৮)। কিন্তু ভালোবাসার সেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন মাত্র সাত মাসের মাথায় রূপ নিল নির্মম ট্র্যাজেডিতে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ (২১)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাশফি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির আবদুল জলিলের মেয়ে। অভিযুক্ত মারুফ একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কাশফিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। তবে হাসপাতালে আসার আগেই কাশফির মৃত্যু হয়েছিল।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন। নিহতের গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে। রোগীকে মৃত ঘোষণার পরপরই তার স্বামী মরদেহ ফেলে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন।’

কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। আদরের ছোট বোনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন ঝুমুর আক্তার।

তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমাদের খবর দেওয়া হয়। হাসপাতালে এসে দেখি আমার বোনের মরদেহ পড়ে আছে। মারুফ আমার বোনকে মেরে এখানে ফেলে চলে গেছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’

মেয়ের মা শাহীনূর আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার ছোট মেয়েটা খুব আদরের ছিল। পালিয়ে বিয়ে করলেও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। যে স্বামী ছাড়া মেয়েটা মুখে ভাত তুলত না, সেই স্বামীই তার প্রাণ কেড়ে নিল?

নিহতের বাবা আব্দুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সে। এরপর থেকেই মারুফ ওর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল। গতকাল দুপুর থেকেই মারুফ আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। রাতে খবর পাই আমার মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে।’

স্বজনদের দাবি, কাশফিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে মারুফ ও তার পরিবার।

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানায় পুলিশ। 

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

আতিক/থিওটোনিয়াস

সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত মোহাম্মদ ফয়জুল মিয়া (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দামকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানা এলাকার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ারের তত্ত্বাবধানে এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘এভারগ্রিন’ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ফয়জুল মিয়াকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক সজিবকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, "হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইমরান/তামান্না রুপা/

পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি অপসারণ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ‘ভুল ধারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঢাকার প্রতিটি রুটে বাসমালিকদের সমন্বয়ে পৃথক কোম্পানি গঠন করে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে একই মান, একই রঙ ও নির্ধারিত সেবার বাস পরিচালিত হবে। বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজ ও টার্মিনাল ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না। এতে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো, অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এবং যানজট কমবে বলে মনে করছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বাস কাউন্টার ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হবে। সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে উন্নত ওয়েটিং রুম, টয়লেট, ফ্যান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ট্রিটলাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস কাউন্টার অপসারণের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় তা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংলাপে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশে মাটি কাটার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে মাটি কাটার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি মূল সেতু কাঠামোর অংশ নয়। সেতু নির্মাণকালে যন্ত্রপাতি ও ভারী যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ভরাট করা আর্টিফিশিয়াল মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ শেষে ঠিকাদারের ওই মাটি সরিয়ে ফেলার কথা ছিল। তবে তা দীর্ঘদিন অপসারণ না হওয়ায় এখন স্বাভাবিক মাটির মতো দেখাচ্ছে। ফলে অনেকের মনে হয়েছে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ওই মাটি সরিয়ে ফেললে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নৌ চলাচল এবং পরিবেশগত ভারসাম্য আরও উন্নত হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতেও মাটি অপসারণকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পিলারের নিরাপত্তার সঙ্গে এই মাটির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মাটি বিক্রি বা কাউকে সুবিধা দেওয়ার প্রকল্পও নয়; বরং মূল নির্মাণকাজের অসমাপ্ত অংশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। প্রকল্পে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, ওই তিনজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের চার সদস্যের একটি দল রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তিন সদস্যকে মারধর করে একটি পিকআপে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তারা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ডিবির আরেক সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহমেদ হামলার সময় পাশের একটি ওয়াশরুমে থাকায় রক্ষা পান। পরে তিনি তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে আড়াইহাজার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাদের ভুয়া ডিবি সদস্য সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাউকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ডিবি সদস্যরা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম
কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার জিসান মিয়ার মামলা নিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।

একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশব্যাপী আলোচিত ও ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন ওই দুই আইনজীবি। ওই বক্তব্যের কারণেই তাদেরকে এপিপির নিয়োগ বাতিল করা হয়।  

এ বিষয়ে এপিপি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারি বিকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন, এর প্রমানও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালত নামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা করা হয়েছে কিনা চিঠিতে  তেমন কিছু উল্লেখ নেই।

এদিকে আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে ‘সরকার নিযুক্ত একজন এপিপি কোন মামলার বিষয়ে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে (মিডিয়া) এভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না। তাই কেউ হয়তো আইন মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি অবহিত করার পরই দুই জনের নিয়োগ বাতিলের  সিদ্ধান্ত আসে।

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুলহ হক রিংকু বলেন, আমরা পিপি এবং এপিপিরা কি করতে পারবো আর কি পারবো না, তা বিধিতে বলা আছে। সরকারের নিযুক্ত হয়ে এপিপিরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন মামলায় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এপিপি দুই সহকর্মীকে পদ থেকে প্রত্যাহারের চিঠি পেয়ে দুপুরে তাদের নিকট পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে আসামি পক্ষে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানী করতে আইনজীবীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নেয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি। অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরুপ বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় দাউদকান্দি মডেল থানায়। ডায়েরি করার দিন রাত ৮টা-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদি হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুইজন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

জহির শান্ত/এসএন