ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ
ছবি: খবরের কাগজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২৫ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এসএনবি।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর ২০২৪ সাল শেষে এই জমার পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে যার অনেকটাই সরিয়ে নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ জমা হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি সুইস ব্যাংকে না গিয়ে বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেল ও মধ্যবর্তী গন্তব্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা হয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং এক বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আগের কয়েক বছরে দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাচার কমবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং যাদের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পদ নিরাপদ রাখতে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে বিনিয়োগ, সম্পদ সংরক্ষণ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশই অর্থ পাচার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থ পাচার বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, পাচারের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে থাকা এই দায়ের মধ্যে গ্রাহকের আমানত এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই হলো ব্যাংকগুলোর দায়, যা মূলত বাণিজ্য-সম্পর্কিত লেনদেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অতীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারীদের তথ্য চেয়ে সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যক্তির তথ্য পায়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা হলে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশে আমরা শুরু থেকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সুইস ব্যাংকেও আমরা যোগাযোগ করব। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের সবই পাচারকৃত, তা বলা যাবে না। কারণ সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বৈধভাবে দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। একসময়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। গোপনে অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য খ্যাত ছিল সুইজারল্যান্ড। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। ফলে সুইস ব্যাংকে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকির টাকা জমা রাখা হয় বলে এক বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ ছাড়া অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই সুইজারল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। এতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও তাদের জমার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীত চিত্র হিসেবে এখানে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের জমার পরিমাণ বেড়েছে।

দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

কলম্বোর বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সামার্পণ বড়ুয়া।

সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু কল্যাণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

নাঈম/

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন। 

এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে তিনি দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: প্রতীকী

ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইউএসজিএস ভূমিকম্পের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, রাজধানীতে ঝাঁকুনি অনুভূত হলে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

নাঈম/

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/

সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রে জ্বালানি পাওয়া শুধু সম্ভাবনা নয়, এটি নিশ্চিত সম্পদ। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এর যথাযথ ব্যবহার ও সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে ‘অফশোর’ এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ (বানৌজা) ঢাকা’র মাল্টিপারপাস হলে দিবসটি উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা অর্জন করে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগী রাষ্ট্রগুলোও মেনে নেয়। পরে ভারত ও মায়ানমার নিজ নিজ এলাকায় সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম চালালেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌযোগাযোগ আরও নিরাপদ, মনোরম ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক। নেভিগেশন, নিরাপদ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্বের চেয়ে আমরা পিছিয়ে আছি, স্বীকার করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা করছি, আমাদের সামর্থ্য মতো করছি এবং সেটাকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।’

আলমগীর হোসেন/রিফাত/