ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল

পরিসংখ্যানের প্রশ্ন এড়াতে স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার: জুনায়েদ সাকি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
পরিসংখ্যানের প্রশ্ন এড়াতে স্বচ্ছতা আনতে চায় সরকার: জুনায়েদ সাকি
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসংখ্যান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমনে যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ ব্যবস্থায় সরকার আরও স্বচ্ছতা আনতে চায় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিবিএসের নবপ্রতিষ্ঠিত মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগার নিয়ে আয়োজিত অংশীজন সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারি পরিসংখ্যানের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে নিরাপদ মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগার (মাইক্রোডেটা অ্যানালাইসিস ল্যাব) চালু করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এই বিশ্লেষণাগারের মাধ্যমে অনুমোদিত গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা বিবিএসের গোপনীয়তা-সুরক্ষিত মাইক্রোডেটা ব্যবহার করে গভীরতর গবেষণার সুযোগ পাবেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু তথ্য উন্মুক্ত করা নয়, বরং স্বাধীন গবেষণাকে উৎসাহিত করা, যাতে উন্নত গবেষণার মাধ্যমে সরকারি নীতিমালা আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়। উন্নতমানের তথ্য সহজলভ্য হলে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও গভীর গবেষণা করতে পারবে, যা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার কারণে এখনই সংবেদনশীল মাইক্রোডেটায় অনলাইনে প্রবেশাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলে ধাপে ধাপে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া উন্নয়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন, নীতির কার্যকারিতা পরিমাপ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব নয়। সরকার চায় গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক স্বাধীনভাবে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারেন। বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তথ্য না থাকলে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য কমানো কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কতটা সফল হচ্ছে, তা নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা যায় না।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, দেশের পরিসংখ্যান সেবাকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এই গবেষণাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্বচ্ছ আবেদন প্রক্রিয়া, সুস্পষ্ট কার্যপদ্ধতি এবং ব্যবহারকারীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা হবে।

বিবিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নতুন এই গবেষণাগার শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডেটা ব্যবহারে একটি নিরাপদ ও সুশাসনভিত্তিক কাঠামো তৈরি করবে।

বাংলাদেশে কোইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম বলেন, বিবিএসের সঙ্গে যৌথভাবে ডেটা প্ল্যাটফর্ম, ডেটা ওয়্যারহাউস এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের পরিসংখ্যান অবকাঠামো আধুনিকায়নে কাজ করছে কোইকা।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের সরকারি পরিসংখ্যানকে শুধু প্রতিবেদন বা প্রকাশিত সারণিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নীতিনির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। 

বিবিএস জানায়, দেশের বিভিন্ন শুমারি, জরিপ ও পরিসংখ্যান কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি তথ্য উৎপাদিত হলেও গবেষকদের জন্য এসব তথ্যের গভীর বিশ্লেষণ সবসময় সহজ ছিল না। বিশেষ করে ব্যক্তি-পর্যায়ের তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্য ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। নতুন মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করবে।

নতুন ব্যবস্থায় গবেষক বা ব্যবহারকারীকে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন, গবেষণার উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয় ডেটাসেটের তথ্য দিতে হবে। এরপর বিবিএস আবেদন যাচাই করে তথ্যপ্রাপ্তির নীতিমালা ও গোপনীয়তার শর্ত পূরণ হলে অনুমোদন দেবে। অনুমোদনের আগে ব্যবহারকারীকে গোপনীয়তা চুক্তি, ব্যবহারকারী চুক্তি এবং নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি অনুসরণের অঙ্গীকার করতে হবে।

মাইক্রোডেটা বিশ্লেষণাগারে গবেষকরা শুধুমাত্র বিবিএসের নির্ধারিত নিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারবেন। সেখানে থাকবে কেন্দ্রীয় সার্ভার, গবেষণার জন্য পৃথক ওয়ার্কস্টেশন, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় নেটওয়ার্ক। নিরাপত্তার স্বার্থে সরাসরি ইন্টারনেট সংযোগ, ইমেইল কিংবা বাহ্যিক সংরক্ষণ যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

বিবিএসের ভাষ্য অনুযায়ী, গবেষকরা তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও কোনো কাঁচা তথ্য, ব্যক্তি-পর্যায়ের রেকর্ড কিংবা গোপনীয় মাইক্রোডেটা ল্যাবের বাইরে নিতে পারবেন না। শুধুমাত্র যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদিত সারণি, চিত্র, পরিসংখ্যানগত ফলাফল, প্রোগ্রাম কোড বা লিখিত বিশ্লেষণ বাইরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এ জন্য পৃথক পর্যালোচনা কমিটি প্রতিটি আউটপুট পরীক্ষা করা। তথ্য সুরক্ষায় একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাইক্রোডেটা থেকে নাম, ঠিকানাসহ প্রত্যক্ষ পরিচয় শনাক্তকারী তথ্য অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার, সার্ভার লগ, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, গোপনীয়তা চুক্তি, নিয়মিত তদারকি এবং আকস্মিক নিরীক্ষার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হবে। 

বিবিএস আরও জানায়, ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডারও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ডেটাসেটের তালিকা, বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান, বছরের ভিত্তিতে বাছাই, মেটাডেটা এবং বিভিন্ন তথ্য বিন্যাসে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যাবে। এর ফলে গবেষকরা গবেষণা শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন এবং যথাযথ ডেটাসেট নির্বাচন করতে পারবেন। বর্তমান পর্যায়ে বিবিএস সদর দপ্তরে নিরাপদ অন-সাইট বিশ্লেষণাগারের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে তথ্যভান্ডার ও মাইক্রোডেটা সেবা আরও সম্প্রসারণ করে নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্রবেশাধিকার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৭ সাল এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে আরও বিস্তৃত অনলাইন মাইক্রোডেটা সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিবিএস।

জাহাঙ্গীর আলম/অন্তরা/

দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে চার স্তরবিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর কারণে তামাক পণ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেটে চলে যাচ্ছেন, যা কর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

সোমবার (২২জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: তামাক কর ও নীতি সংস্কারের শেষ সুযোগ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। ‘শুধু দাম বেড়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং এই বৃদ্ধি তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি রাজস্ব সর্বোচ্চ করতে যথেষ্ট কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন রাজস্বের বড় সুযোগ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ই-সিগারেটের নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞা দুর্বল করে এগুলোকে কার্যত সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া আগামী দিনগুলোতে তরুণদের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুহম্মদ ইহতিসাম হাসান। তিনি দেখান, ২০২৪ সাল থেকে বাজারে সামগ্রিক সিগারেট সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বারবার কর ও মূল্য সমন্বয়ের পরও তামাক পণ্য এখনো সাশ্রয়ী রয়ে গেছে। তামাক সেবন হ্রাস এবং যুবসমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতি ১০ স্টিকের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধির টাকা সরাসরি সরকারের রাজস্বে জমা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ যদি চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরিত হতে চায়, তবে তামাক করকে প্রধান হাতিয়ার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহীন শিমুল তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

কলম্বোর বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সামার্পণ বড়ুয়া।

সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু কল্যাণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

নাঈম/

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন। 

এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে তিনি দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: প্রতীকী

ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইউএসজিএস ভূমিকম্পের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, রাজধানীতে ঝাঁকুনি অনুভূত হলে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

নাঈম/

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/