ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা কি বাধ্য? বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি মহাতারকা আজও মেসি জাদুর অপেক্ষায় বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি তারকা নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল লালমনিরহাটে উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করা কে এই ফিন সারম্যান? ২২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রূপবতী সাদা মথ গাছফড়িং ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের নতুন চাকরি মিলছে না আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইউরোপীয় পরীক্ষা, অঘটনের স্বপ্ন অস্ট্রিয়ার জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া

সময় পেরোলেও হয়নি ভবন

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৫, ০৮:২৫ এএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৫, ০৮:৫০ এএম
সময় পেরোলেও হয়নি ভবন
খবরের কাগজ

প্রায় ছয় মাস হলো বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ১৮২ নম্বর বারইখালী সুতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে কাজের ধীরগতির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবন দৃশ্যমান হয়নি। অথচ গত বছরের আগস্টে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিকসময় কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করছেন। তবে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারের গাফিলতি নয়, নির্মাণসামগ্রী আনা-নেওয়ায় সমস্যার কারণে কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে। 

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় এ স্কুলের ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এ বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের কাজ পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চান এন্টারপ্রাইজ।

ভবন নির্মাণকাজ শুরুর কথা ২০২৩ সালের আগস্টে। আর শেষ করার কথা ২০২৪ সালের আগস্টে। কিন্তু কাজের অনুমতির পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চান এন্টারপ্রাইজ ৮ মাস কাজ বন্ধ করে রেখেছিল। গত বছরের শেষের দিকে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কাজ না করে সময় বাড়ানোর আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। 

সম্প্রতি বারইখালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ১৮২ নম্বর বারইখালী সুতালড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই টিনের চালের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ক্লাস ও অফিস করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, ‘ভবনের নির্মাণের বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এদিক সেদিক ফেলে রাখা হয়। এতে আমাদের অনেক সহপাঠী বিভিন্ন সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সে জন্য তারা স্কুলে আসতে চায় না। একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ক্লাসে হাঁটু পর্যন্ত পানি হয়ে যায়। এতে ক্লাস করা যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের স্কুলের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনর রশীদ বলেন, ‘একবছর আগে ভবন নির্মাণ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। সে জন্য এখনো ঝুঁকি নিয়ে টিনের চালের জরাজীর্ণ কক্ষে পাঠদান করাচ্ছি, অফিস করছি। একটু বৃষ্টি হলেই প্রতিটি ক্লাস পানিতে ভরে যায়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা না গেলে বর্ষা মৌসুমে আরও দুর্ভোগে পড়তে হবে।’ 

স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান বলেন, ‘এই স্কুলের সঙ্গে অনেক স্কুলের কাজ শুরু হয়। সেগুলোর কাজ শেষ হয়ে গেছে। আমাদের এই স্কুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এই ঠিকাদার ইচ্ছামতো কাজ করেন। যখন মনে চায় তখন এসে কাজ করেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে স্কুল এলাকায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় আমাদের ছেলেমেয়েরা দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।’ 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের স্টিল ব্রিজ এলাকায় একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সে কারণে শুরুর দিকে স্কুলের ভবন নির্মাণের মালামাল আনা নেওয়া করা যায়নি। সে জন্য নির্মাণ প্রায় একবছর পিছিয়ে গেছে। কাজ করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে এ সমস্যা এখন আর নেই বললেই চলে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চান এন্টারপ্রাইজকে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

বর্ষা এলেই জলজট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
বর্ষা এলেই জলজট
ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষা মৌসুম এলেই কক্সবাজারের টেকনাফে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রতিবছরের মতো এবারও একটু ভারী বৃষ্টিপাতেই উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বীজতলা ও মৎস্য ঘের। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও খামারিদের। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, খাল ভরাট ও অবৈধ দখলের কারণেই পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উপজেলার চিহ্নিত ৪০টি খাল পুনর্খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির আউশ বীজতলা, ধানখেত, সবজি চাষ ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ১০৭ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্যদিকে চিংড়ি ঘের ও পুকুরসহ প্রায় ৮০০ হেক্টর মৎস্য খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব মৎস্য খামারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে শুধু মাছের ঘের ও পুকুরই নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছে বিভিন্ন পোলট্রি খামার। ফলে কৃষক ও খামারিরা আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খাল ভরাট ও দখলের কারণে প্রতিবছর টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সীমান্ত সড়কের স্লুইচ গেটের সংখ্যা বাড়ানো হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে বলে মত দেন তিনি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খাল ভরাট, দখল ও নিয়মিত খননের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার সব খাল খনন, সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। 

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি একটি সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব উদ্যোগ। টেকনাফ উপজেলায় খাল খননের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হবে ও এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে টেকনাফের সাবরাং, বাহারছড়া, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও পৌরসভা এলাকার মোট ৪০টি খালের বর্তমান অবস্থা, দৈর্ঘ্য, আয়তন, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) ও দিয়ারা দাগ নম্বরসহ তালিকা এবং প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোকে পুনর্খনন কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খাল দখল প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কায়ুকখালী খালটি আগের ম্যাপ ও আরএস দাগ অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করতে হবে। খালের দুই পাশ থেকে সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মোহাম্মদ অনীক চৌধুরী বলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ও প্রধান পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে পরিচিত কায়ুকখালী খাল পুনর্খননের কাজ খুব শিগগির শুরু হবে। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) ম্যাপ অনুযায়ী খাল খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগের ম্যাপ অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলে অনেকের মালিকানাধীন জমি খালের আওতায় পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বড় খাল ও হেচ্চ্যা খালের সংস্কার কাজও দ্রুত শুরু করা হবে।

ইউএনও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে টেকনাফের ৪০টি খাল দখলমুক্ত করে পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য খালের তালিকা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লালমনিরহাটে উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
লালমনিরহাটে উজানের ঢলে বাড়ছে তিস্তার পানি
ছবি: খবরের কাগজ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বাড়েছে। রবিবার (২১ জুন) বিকেল তিনটা ও দুপুর বারোটায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে।

গতকাল থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করায় ব্যারাজের ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির  আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তবে, বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমী ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, মূলত উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই তিস্তা ও ধরলায় বন্যার সৃষ্টি হয়।

গতকাল থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে পানিমাত্রা ওঠানামা করছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা ধরলা এবং তিস্তা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি এবং সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।

মাহফুজ/আমান

সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চন নগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের কবির হোসেন (৩০) এবং শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে কবির ও শহিদুল মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আসাদ জামান/রিফাত/

কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৫৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির বাঘা আইড় মাছ। মাছটি স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। পরে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে সম্ভাব্য মূল্যে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে। সেই হিসাবে মাছটির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। এদিকে বিরল আকৃতির মাছটি দেখতে শিক্ষক সাজুর বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষজন।

রবিবার (২১ জুন) সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া অনন্তপুর এলাকার জেলে বকুল চন্দ্র ও তাঁর সহযোগীদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। রাতভর মাছ ধরার পর ভোরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বিশাল আকৃতির বাঘা আইড়টি জালে ওঠে।

জানা যায়, মাছটি জেলেদের কাছ থেকে কিনে নেন অনন্তপুর এলাকার স্কুলশিক্ষক মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু।

তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন পানি আসায় বড় মাছের চলাচল বেড়েছে। এ সুযোগে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে বাঘা আইড়টি ধরা পড়ে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এত বড় মাছ বাজারজাত করা জেলেদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় আমি মাছটি কিনে নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫৫ কেজির এই মাছ একা খাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। এতে মাছটি প্রায় ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের বিচরণ বেড়েছে। জেলেদের জালে ৫৫ কেজি ওজনের একটি বাঘা আইড় মাছ ধরা পড়া অবশ্যই সুখবর। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আমরা সারা বছর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

সিরাজ/রিফাত/

অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। আহত শিক্ষার্থী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, বজ্রপাতে আহত চার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।