ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ আজও মেসি জাদুর অপেক্ষায় নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল পালানোর সময় ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতা নিহত ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করা কে এই ফিন সারম্যান? ২২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রূপবতী সাদা মথ গাছফড়িং ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের নতুন চাকরি মিলছে না আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইউরোপীয় পরীক্ষা, অঘটনের স্বপ্ন অস্ট্রিয়ার জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও ইরাকের অসম লড়াই ২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ ইরানের রক্ষণদুর্গে আটকে গেল বেলজিয়াম গোল বাতিল ইরানের, গোলশূন্য প্রথমার্ধ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

খুলনায় মাদকের ছড়াছড়ি কঠোর অবস্থানে বিএনপি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৫, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১০ মে ২০২৫, ০৯:২১ এএম
খুলনায় মাদকের ছড়াছড়ি কঠোর অবস্থানে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত খুলনা মহানগরী। যার প্রধান শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, মাদকাসক্তদের ৭০ শতাংশই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যাদের বয়স ১৪-২২ বছরের মধ্যে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসার ভাগাভাগি নিয়ে হামলা, মামলা ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বন্দর নগরী খুলনা আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে।

এদিকে খুলনায় মাদক প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান ঘোষণা করেছে মহানগর বিএনপি। মহানগরীকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৯ মে) নগরীর কেডি ঘোষ রোডে বিএনপির কার্যালয়ে মাদক সেবন প্রতিরোধে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টায় চিত্রালী বাজার থেকে নগরীর খালিশপুর থানার ৭, ৮ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালির আয়োজন করা হয়। আগামী রবিবার খালিশপুর থানার ৯, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী র‍্যালির পরিকল্পনা করা হয় এবং আগামী সোমবার ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের র‍্যালি নিউজপ্রিন্ট মিল গেটে বিএনপির অফিস থেকে বের করার কথা বলা হয়। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে। 

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘মাদকে আসক্তির কারণে ক্রমশই সমাজে বাড়ছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। যার মধ্যে রয়েছে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, জখম ও ধর্ষণ। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে, মোটরসাইকেলে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে, স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পরে, পাগল ও ভিখারির বেশে এবং ভ্রাম্যমাণ হকার সেজে অনেক ব্যবসায়ী মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ করাল গ্রাস থেকে বিরত রাখার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’  

মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষার জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। মাদকের অবাধ বাণিজ্য বন্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ 

সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চন নগর এলাকায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের কবির হোসেন (৩০) এবং শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে কবির ও শহিদুল মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আসাদ জামান/রিফাত/

কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৫৫ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির বাঘা আইড় মাছ। মাছটি স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষক। পরে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে সম্ভাব্য মূল্যে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে। সেই হিসাবে মাছটির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। এদিকে বিরল আকৃতির মাছটি দেখতে শিক্ষক সাজুর বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় উৎসুক মানুষজন।

রবিবার (২১ জুন) সকালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া অনন্তপুর এলাকার জেলে বকুল চন্দ্র ও তাঁর সহযোগীদের জালে মাছটি ধরা পড়ে। রাতভর মাছ ধরার পর ভোরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বিশাল আকৃতির বাঘা আইড়টি জালে ওঠে।

জানা যায়, মাছটি জেলেদের কাছ থেকে কিনে নেন অনন্তপুর এলাকার স্কুলশিক্ষক মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু।

তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে নতুন পানি আসায় বড় মাছের চলাচল বেড়েছে। এ সুযোগে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে বাঘা আইড়টি ধরা পড়ে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এত বড় মাছ বাজারজাত করা জেলেদের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় আমি মাছটি কিনে নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫৫ কেজির এই মাছ একা খাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। এতে মাছটি প্রায় ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের বিচরণ বেড়েছে। জেলেদের জালে ৫৫ কেজি ওজনের একটি বাঘা আইড় মাছ ধরা পড়া অবশ্যই সুখবর। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আমরা সারা বছর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

সিরাজ/রিফাত/

অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দি মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় অজু করার সময় বজ্রপাতে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। আহত শিক্ষার্থী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, বজ্রপাতে আহত চার শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ
মারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপ থেকে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ছয় দিন আগে নিখোঁজ হওয়া সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়ার (১৪)।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত মারিয়া সিংগাইর উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকার প্রবাসী মিজানের মেয়ে। তিনি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় নিচতলায় অবস্থিত অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ১৫ জুন উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) প্রদান করা হয়।

স্বজনদের দাবি, টিসি দেওয়ার সময় আলিফের অভিভাবক উপস্থিত থাকলেও মারিয়া সেখানে ছিল না। পরে তার পরিবারের কাছে টিসির কাগজ পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মারিয়া নিখোঁজ ছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন রেখে যায়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের ছয় দিন পর রবিবার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্কুলব্যাগসহ একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মরদেহে পচন ধরেছিল এবং এটি কয়েক দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের নিচের অংশ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার পড়নে ছিল স্কুল ইউনিফর্মের বোরখা। গলায় একটি ওড়না পেঁচিয়ে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলের পাশেই মারিয়ার ব্যবহৃত স্কুলব্যাগ পাওয়া যায়।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটা মারিয়ার লাশ। তারপরও পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় আলামত পরীক্ষার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

আসাদ জামান/রিফাত/

মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা
ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফরকে ঘিরে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারকেন্দ্রিক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো নতুন ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর)-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়েও আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার এবং একই সঙ্গে জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়লেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনো বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বাসসকে বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি খাত ছাড়া বর্তমানে বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমবাজারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা ও হালাল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনোয়ার শহীদের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হলেও বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ তুলনামূলক কম। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো গেলে রেমিট্যান্স আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

মালয়েশিয়াপ্রবাসী ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সাবেক পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তার মতে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্প, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্পে আগ্রহ রয়েছে। সফরের পর সরকারি পর্যায়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিতে পারে।

তিনি বাসসকে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই শুধু শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে প্রশিক্ষিত কর্মী, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স আয় বাড়বে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে।

মাহবুব আলম শাহ বলেন, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর এটি উপযুক্ত সময়। 

মালয়েশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। এ খাতে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদায়নে সহযোগিতা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা গেলে তা উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সফর-পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর। এফটিএ-সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ সহজীকরণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারত্ব বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাঁচ দশকের বেশি সময় পর এবারের সফরকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা।