অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তবে সতর্কতা হিসেবে এই জেলার আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার অন্তত ৩১ কিলোমিটার সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওইসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে চলাফেরা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিজিবির সীমান্ত ফাঁড়িগুলোর (বিজিবি) উদ্যোগে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে।
শনিবার (১০ মে) সকালে আখাউড়ার ফকিরমোড়া, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দলবদ্ধ হয়ে বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে টহল দিচ্ছেন।
এ ছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কেউ যেন সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবাধ চলাফেরা না করেন, সে বিষয়ে ভারত সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে ঘুরে স্থানীয়দের সচেতন করছেন।
আখাউড়ার কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল আহমেদ জানান, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতীয়দের পুশইন নিয়ে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা নিয়ে তাদের গ্রামের মানুষদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।
ভারত সীমান্তবর্তী বাউতলা গ্রামের বাসিন্দা আসিফ মিয়া জানান, রাতে সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো চোরাচালান না হয়, সে জন্য বিজিবির তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
এ বিষয়ে বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। টহল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। তবে ২৫ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো পর্যন্ত অবৈধ অনুপ্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যসহ ভারতের পণ্য চোরাচালান রোধেও বিজিবি সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে।