লালমনিরহাটের তিন উপজেলার ছয় সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৫৭ নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। তারা সবাই ভারতের আসামের নাগরিক।
বুধবার (২৮ মে) ভোরের দিকে একযোগে এসব মানুষকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।
তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের বাধায় তারা সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডের ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।
এ ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর বিওপির চওড়াটারী সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। পরে আবারো বৈঠকের আশ্বাস দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায় বিএসএফ। পরে দুপুর ২টার দিকে বিজিবি-বিএসএফের ব্যাটালিয়ান পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
লালমনিরহাট সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ছবি: খবরের কাগজ
বিজিবি জানায়, বুধবার ভোরের দিকে আদিতমারীর দূর্গাপুরের চওড়াটারি সীমান্ত দিয়ে ১৩ জন, হাতীবান্ধা উপজেলার ৩টি সীমান্ত দিয়ে ২৪, পাটগ্রাম উপজেলার ২টি সীমান্ত দিয়ে ২০ জনকে একযোগে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়ে আছে উভয় বাহিনী।
সীমান্তবাসী জানায়, ভোর রাত থেকে জেলার চার উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইন করার চেষ্টা করছে ভারতের আসাম রাজ্যের কিছু মুসলিম। তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ অবস্থা দেখে পুশ ইন রোধে সীমান্তে সতর্কভাবে অবস্থান নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় বিজিবিকে সাহস দিতে তাদের পাশে লাঠি হাতে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসী। ফলে ভোর রাত থেকে চেষ্টা করেও ওইসব ভারতীয় আসাম রাজের মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
তবে স্থানীয়রা জানান, শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া মানুষগুলো জানিয়েছে তারা আসাম রাজ্যের নাগরিক। সেখানে তাদের জায়গা জমি বাড়ি গাড়ি রয়েছে। তাদের পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে শূন্যরেখায় ফেলে গেছে বিএসএফ। ৮/১০ জনের একটি করে গ্রুপ করে একেক সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেলে যায় তাদের।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, তারা সবাই আসামের নাগরিক, তারা ভারতে প্রত্যাবর্তন করতে চায়। আমরা বৈঠকে জানিয়েছি যে তারা আসামের বাসিন্দা, বাংলাদেশি নন। আর যদি কোনো বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে হয় তাহলে নির্দিষ্ট আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে এমন উত্তেজনা কাম্য নয়।
বিজিবি রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সাব্বির আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুশ ইন রোধে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। পতাকা বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এমআই বকুল/মাহফুজ