নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পৌর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সামনে দিঘিরপাড় ও বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকায় দুটি কালভার্ট নির্মাণে সরকারের ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা গচ্ছা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্রীজ দুটির দু’পাশে খাল ভারাট হয়ে যাওয়ার পরও দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিয়ে দুটি কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সেখানে বালু ও মাটি ফেলে সড়ক সংযোগ করা হলে সরকারের এ টাকা গচ্ছা যেত না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। হাসমত এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কালভার্ট ব্রীজ দুটি নির্মাণ কাজ করছেন। খাল ছাড়া কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম দাবি করেন সেখানে সড়কের শ্রেণী পরিবর্তনের কোন সুযোগ নাই। পূর্বে ব্রীজ থাকার কারনে কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা যায়, দুটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করেন নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরে হাসমত এন্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কালভার্ট ব্রীজ দুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পান। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করেন। লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সামনে ৯৭ লাখ টাকায় একটি কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ কাজ শেষে করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সাহাপুর এলাকায় ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় কালভার্ট ব্রীজের নির্মাণ কাজ চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার সাহাপুর ও দিঘিরপাড় এলাকায় এক সময়ে খরস্রোতা খাল ছিল। সেই খাল দিয়ে নৌকাযোগে মানুষ বিভিন্ন বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। স্থানীয়রা খালের দু’পাশ বালু ভারাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করে খাল বন্ধ করে দেন। বর্তমানে সেখানে খালের কোন অস্তিত্ব নেই। যেখানে খালই নেই, সেখানে সরকারের দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকা খরচ করে কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করায় বিষয়টি হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। মাটি ফেলে ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করলেও কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।
দিঘিরপাড় গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, দুই কোটি ৭৪ লাখ টাকা খরচ করে দুটি কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে মাটি ফেলে সড়কের সংযোগ দিলেই হতো। বড় বাজেটে বড় ধরণের চুরি করতেই এখানে কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সাহাপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, সাহাপুর এলাকায় যেখানে কালভার্ট ব্রীজ নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে ব্রীজের প্রয়োজনীয়তা নাই। খালের দু’পাশ বালু ভরাট করে খাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে খাল উদ্ধার করে ব্রীজ হলে এলাকাবাসীর উপকারে আসত।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, খাল না থাকার বিষয়টি বিবেচনা করেই দুটি স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কের শ্রেণী পরিবর্তনের কোন সুযোগ নাই।
ইমরান/সিফাত/