চট্টগ্রামে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে নগরের কিছু কিছু এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যাও কম দেখা গেছে। এদিকে সড়কে ক্ষয়ক্ষতি, পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতি পার করতে হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দাদের।
রবিবার (১ মে) চট্টগ্রাম মহানগরের মনসুরাবাদ, চৌমুহনী, মেহেদীবাগ, হালিশহর, নয়াবাজার, চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়কে চলাচলকারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিকে নগরের হালিশহর ফইল্ল্যাতলি বাজারসংলগ্ন মহেশখালের পাড় ঘেঁষে যাওয়া সড়কে ফাটল ধরেছে। এটি পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
নগরের চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মো. রাশেদ বলেন, ‘ভারী বর্ষণে আমাদের চৌমুহনী সড়কটিতে হাঁটুসমান পানি জমেছে। অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই সড়কে চলতে গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘রবিবার বেলা ৩টা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা জানান, উদ্বোধনের দুই মাস পার না হতেই সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া ফেরিঘাটটি বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে প্রবল ঢেউয়ে ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেরিঘাট পর্যন্ত নবনির্মিত ৮০০ মিটার সড়কটিও।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘সড়কের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। এর মধ্যেই সৃষ্ট নিম্নচাপে ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকৌশলীরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছেন। তালিকা অনুযায়ী দ্রুত মেরামত করা হবে।’
অন্যদিকে সাতকানিয়া সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমা ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডলু নদী তীরবর্তী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীরবর্তী বেশ কিছু অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেলতলী ঘাটে ভাঙন শুরু হয়েছে।
বাঁশখালী সংবাদদাতা জানান, বাঁশখালীতে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। বিদ্যুতের তার ও খুঁটির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুতের বাঁশখালী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতিকুর রহমান জানান, লাইন মেরামতের কাজ চলছে।
মিরসরাই সংবাদদাতা জানান, মিরসরাইয়ে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট ও জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়ক, বড়দারোগাহাট-কমর আলী সড়ক।
অন্যদিকে ফটিকছড়ি সংবাদদাতা জানান, বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বন্যার শঙ্কা বাড়ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ধর্মপুর, নারায়ণহাট, খিরামসহ একাধিক নিচু অঞ্চলে পানি উপচে পড়ছে। বাড়ছে জলাবদ্ধতা, ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় কৃষি ও বসতবাড়ি। পাশাপাশি হালদা নদী, ধুরুং খাল এবং সর্তা খালে পানির প্রবাহ অনেক বেড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা মো. ফয়সাল বলেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গাছ ভেঙে পড়ায় প্রাথমিকভাবে কয়েকটি লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে।