দীর্ঘ তিন বছর ধরে চট্টগ্রামের চকবাজার উর্দুগলির টিপুর বিল্ডিংয়ে থাকেন পারভিন আক্তার। কুমিল্লার দেবীদ্বার থানা এলাকায় ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে আসেন জীবনযুদ্ধে তাড়নায়। আগে চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও চকবাজার আসেন তিন বছর হয়েছে। এই তিন বছর ধরে তাকে চলতে হচ্ছে বর্ষায় জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুদ্ধ করে। এ বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম অফিসের স্টাফ রির্পোটার আবদুস সাত্তার।
খবরের কাগজ: বর্ষায় ঘরে পানি প্রবেশ করলে কী করেন?
পারভিন আক্তার: ঘরে যখন পানি ঢুকে তখন একটা খাটের ওপর আরেকটা খাট দিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বসে থাকি। পানি নেমে গেলে খাট থেকে আবার নেমে আসি। এভাবে বছর বছর ধরে পানির সঙ্গে সংগ্রাম করছি। কম ভাড়ায় দুঃখে-কষ্টে এ বাসা থাকছি। অনেক সময় রাতেও বাসায় পানি উঠে যায়। তখন খাটের ওপর বসে থেকে সকাল হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়।
খবরের কাগজ: জলাবদ্ধতার সময় বাচ্চাদের কীভাবে রক্ষা করেন?
পারভিন আক্তার: ঘরে পানি ঢুকলে বাথরুমের পানিও মিশে যায়। নোংরা পানি থেকে বাচ্চাদের সরিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকে। বাচ্চাদের মধ্যে মোহাম্মদ বাবু (৯ বছর), মোহাম্মদ হাসান (৩ বছর), ফাতেমা (২ বছর)। পানি পেলে তারা পানিতে নেমে খেলতে চায়। কিন্তু তাদের পানিতে নামতে দেওয়া হয় না। তাদের আগলে ধরে খাটের ওপর বসে থাকতে হয়। তখন ঘরের জিনিসপত্র রক্ষার চেয়ে বাচ্চাদের রক্ষা করতে হয় আগে। কারণ একটু এদিক ওদিক হলে ঘরের পানিতেই বাচ্চাদের হারাতে হবে। সেই ভয়ে তাদের নিয়ে বসে থাকি।
খবরের কাগজ: এত কষ্ট করে এখানে কেন থাকছেন?
পারভিন আক্তার: বাসা ভাড়া কম। তাই কষ্ট হলেও পানির সঙ্গে সংগ্রাম করে এসব ঘরে বসবাস করছি। আমাদের আর কিছুই করার নেই। কী করব? কোথায় যাব। চট্টগ্রাম শহরে মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠাঁই নেই। তাই কষ্ট হলেও এখানে বাসা নিয়ে থাকছি।
খবরের কাগজ: ঘর থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কেমন?
পারভিন আক্তার: এখানে ১০ থেকে ১২টি পরিবার ভুক্তভোগী। বর্ষার মৌসুমে কয়েকবার ঘরে পানি ঢুকে। পাশের হিজরা খালে পানি বাড়লে বা বেশি বৃষ্টি হলে আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়। প্লাবিত হলে তখন ঘরে পানি থইথই করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি সরে যায়। তখন আবার ঘরে ভেতরে থাকা পানি জমা হয়ে থাকে। সেই সময় সেচের ব্যবস্থা করেন বাড়িওয়ালা। মেশিন দিয়ে পানি সেচ দেন। এরপরও আমাদের নিজের হাতে সেচ দিতে হয়। ঘরে আসবাবপত্র মুছতে হয়। মেঝেতে ধোয়া-মোছা করতে হয়। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়।
খবরের কাগজ: জলাবদ্ধতার কারণে বাচ্চাদের রোগবালাই হয় কি না?
পারভিন আক্তার: বাচ্চাদের গায়ে চুলকানি হয়, অ্যালার্জি হয়। অনেক সময় পাতলা পায়খানাও হয়। তখন পাশে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চলে যাই। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসি।