দেশজুড়ে বইছে তাপপ্রবাহ। সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের তাপমাত্রা প্রতিবছরই বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণের কারণে তাপ নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে তিন ধাপে সেই রেকর্ড ভেঙে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সাতক্ষীরায় ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও মোংলায় ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনার জনজীবন। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে গরম। সেই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে দরদর করে ঝরছে ঘাম, গলা শুকিয়ে প্রাণ যেন ওষ্ঠাগত। গরমে দিনমজুর, রিকশাচালকসহ সাধারণ কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ, কলকারখানার কালো ধোঁয়া, গাছ কেটে ফেলাসহ নানা কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। অনেক দিন ধরে বৃষ্টি নেই। ফলে আবহাওয়া উত্তপ্ত হচ্ছে।’
শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়, ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহারে তাপ নিঃসরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় তাপমাত্রা বাড়ছে বলে মনে করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ইউসুফ আল হারুন। তিনি বলেন, ‘তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আরও গবেষণাপূর্বক করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’
এ দিকে তীব্র গরমে বাইরে বিনা কারণে ঘোরাঘুরি না করার অনুরোধ করেছেন জেলা সদরের গাজী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. গাজী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গরমে বেশি বেশি পানি পান করা, রোদে কম যাওয়া ও হালকা রঙের পোশাক পরা উচিত। এ সময় বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। পেটের পীড়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। এ কারণে বয়স্ক ও শিশুদের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে।’