সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দিনভর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে আছে এবং সমুদ্রের পানি উত্তাল। এতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতকারীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন হাতিয়ার মানুষ।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বুধবার ঢাকা থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চ ভোলা পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে বলে জানান লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. আইয়ুব খবরের কাগজকে বলেন, ‘সকাল থেকেই মেঘনা নদীতে সাগরের মতো ঢেউ ওঠে এবং একইসঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দোকানপাটে মানুষ নেই। বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বসে আছেন, কাজে যেতে পারছেন না। ৩ নম্বর সংকেত দেওয়া হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই।’
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সঙ্গে নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বজ্রমেঘ ও বায়ুচাপের তারতম্য দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছে থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সতর্কতা হিসেবে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
হানিফ/পপি/