সিলেটের পাথরমহাল খুলে দেওয়া, জেলা প্রশাসকের অপসারণসহ ছয় দাবিতে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করে সড়ক পরিবহন ও মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। একটানা প্রায় ৯ ঘণ্টা গণপরিবহন বন্ধ রাখার পর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক আহ্বান করায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধর্মঘট স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
পরে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নেন সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, পাথরমহাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, ‘সিলেট কোনো বিচ্ছিন্ন জায়গা নয়, দেশের একটা অংশ। সারা দেশে পাথর উত্তোলন করা গেলে সিলেটে যাবে না কেন? এর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত। সনাতন পদ্ধতিতে সিলেট থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ হলো কেন? এটাও একটা বড় প্রশ্ন। যদি আইন মেনে বালু বা পাথর উত্তোলন করা হয়, তাহলে সমস্যা কোথায়? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমস্যা ছিল বলে বেলা (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি) রিট করেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানতে হবে। যেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হোক না কেন, রিভিউ করার সুযোগ আছে। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে গিয়ে যদি রিভিউ করার সুযোগ থাকে, তাহলে প্রশাসনিক আদেশেরও রিভিউ হতে হবে। আমরা এ বিষয়গুলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাব। অন্তর্বর্তী সময়ে আমরা কী করব আর করব না, সেটা আপনাদের জানাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনো জনগণের প্রতিপক্ষ ছিলাম না। জুলাই-আগস্টেও আমরা জনগণের পক্ষে ছিলাম। সব সময় জনগণের পক্ষে থাকব। আজকের বৈঠকের সব বিষয় একত্র করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কাছেও পৌঁছানো হবে। কারণ উপদেষ্টারা যদি বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ জায়গায় চলে যাব। সবাইকে নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্তে আসা হবে। রাষ্ট্র হলো জনগণের স্বার্থে। জনগণ না বাঁচলে রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। জনগণ সবার ওপরে।’