সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনে বসতবাড়িসহ বহু ফসলিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আরও দুই সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনার বিভিন্ন স্থানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
যমুনার ভাঙনে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামে অন্তত ১০০টি বসতবাড়ি, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চবিদ্যালয় ও ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও দফায় দফায় বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। নদী-সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় যমুনা পাড়ের মানুষ এখন বন্যার আশঙ্কা করছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ি, চৌহালী উপজেলার খাষকিউলিয়া জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর, স্থল, তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ঘোড়জান, ফুলহারা, চালুহারা, শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুর, সোনাতনী, ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া, চর ঠুটিয়া, বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। আর এই ভাঙনে ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলের আখ পাট ও বাদামসহ বহু ফসলিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ ভাঙনের বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বর্ষণে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং সেই সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বাড়ছে। ভাঙনের মুখে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক স্থানে ভাঙনও শুরু হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন এ বিষয়ে বলেন, কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বাড়ছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সেরকম বন্যার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এলাকাবাসী জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা, কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন, চৌহালী উপজেলার জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর ইউনিয়ন, স্থল ইউনিয়নের তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ছোট চৌহালী ও ঘোড়জান ইউনিয়নের ফুলহারা ও চালুহারা গ্রাম, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গোপালপুর, সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া ও কৈজুরী ইউনিয়নের চর ঠুটিয়া গ্রাম এবং বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোত বইছে। এ কারণে নদীতীরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী ও বাহুকা এলাকায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নদীতীরে সর্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে বন্যার আশঙ্কা নেই।’